লক্ষ্মীপুর-রায়পুর-ফরিদগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কসহ উপজেলা ও পৌরসভার প্রায় সবগুলো পাকা সড়ক ভাঙাচুরা ও খানাখন্দের সৃষ্টি যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম। বশির ভাগ সড়কে হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই এসব বড় বড় খানাখন্দে পানি জমে পুকুরের মত হয়ে পড়ে। বতর্মানে টানা ১৫ দিনের বৃষ্টিতে এসব সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে এ উপজেলার বাসিন্দারা ও যান চলাচলকারীদের। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় সড়কগুলোর এ দুরবস্থা হয়েছে। এ ছাড়াও ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় অল্প বৃষ্টিতেই শহরে প্রধান সড়কসহ পানিতে তলিয়ে যায় বাজারের প্রায় সড়ক।
এদিকে লক্ষ্মীপুর-রায়পুর-ফরিদগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক, রায়পুর-পানপাড়া ও রায়পুর-কাপলাতলী সড়ক অনেকটা মৃত্যুফাঁদে পরিণত হওয়ায় সংস্কারের দাবিতে এলাকাবাসী ও চালকরা বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে লক্ষ্মীপুর-রায়পুর-ফরিদগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কটি কয়েক মাস আগে প্রায় কোটি টাকা ব্যায় মেরামত করলেও তা কোনো কাজে আসছে না।
লক্ষ্মীপুর-রায়পুর-ফরিদগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে গর্ত ও ফাটল দেখা দেওয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় গত তিন মাসে সাত জনের প্রাণহানিসহ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন প্রায় অর্ধ শতাধিক, আহত হয়েছেন প্রায় তিন শতাধিকর অধিক। এ মহাসড়কের দুরাবস্থা দেখা দিলেও কার্যত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। রায়পুর -লক্ষ্মীপুর সড়কের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম মত্স্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং জীনের মসজিদ ও অপরূপ সুন্দর্য মেঘনার তীরবর্তী হওয়ায় এই সড়ক দিয়ে দেশের নানা প্রান্তের মানুষ চলাচল বেশি করে থাকে।
কার্পেটিং উঠে গিয়ে উপজেলার রায়পুর-রামগঞ্জ, রায়পুর-কাপলাতলি, নাতুন বাজার মহিলা কলেজ সড়ক, উপজেলার মোড় থেকে-টিসি সড়ক এবং রায়পুর থেকে কেরোয়া সড়কে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়াও কাঞ্চনপুর-দেনায়েতপুর গ্রামের মধ্যবর্তী সংযোগ টিএনটি সড়কটির অবস্থা এতই খারাপ যে, দিনের বেলায়ও রিকশা উল্টে যাত্রী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে অহরহ। পৌর ৭নং ওয়ার্ডের মিরগঞ্জ সড়কটির অবস্থাও রয়েছে করুণ।
রায়পুর পৌর মেয়র ইসমাইল খোকন বলেন, পৌরসভার উন্নয়নের জন্য প্রর্যাপ্ত বাজেট না পাওয়ায় উন্নয়ন করা যাচ্ছে না। পৌরসভার যে আয় হয়, তা দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাই হয় না। সরকার বা বিদেশি সংস্থার বড় সাহায্য ছাড়া এসব সড়ক এক সঙ্গে সংস্কার করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ইতোমধ্যে ৯টি সড়কের ট্রেন্ডার দেওয়া হয়েছে। প্রর্যায়ক্রমে বাকীগুলোও হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন ভুইয়া বলেন, প্রতি বছরই সড়ক সংস্কার করা হয়। পরিমাণ মতো অর্থ বরাদ্দ না আশায় এক সঙ্গে সংস্কার করা সম্ভব হয় না।
ইত্তেফাক/নূহু
