আলোচনার মধ্যেই সমাধান দেখছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৭, ১৯:১৩
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার সংকট নিরসনে শীঘ্রই আলোচনা শুরু হবে বলে মনে করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। ফিলিপাইনের ম্যানিলায় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার বৈঠকের পর তারা আলাদাভাবে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। রবিবারের ওই বৈঠকটি ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার বিলে স্বাক্ষরের পর দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম বৈঠক।
 
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসন সোমবার বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন সমস্যার সমাধান এবং উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া একটি পথ খুঁজে বের করতে পারে। তিনি আরো বলেন, মার্কিন নির্বাচনে সন্দেহভাজন রুশ সংশ্লিষ্টতার একটি মাত্র ইস্যু নিয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করা কাজের কিছু হবে না। তিনি এই বিষয়টি নিয়ে ল্যাভরভের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান। টিলারসন বলেন, এই ঘটনাটি কতটা গুরুতর এবং সেটি কীভাবে দুইটি দেশের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তিনি তা বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জানান, রাশিয়াও ইউক্রেনে সংকট নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করার কিছু আগ্রহ প্রকাশ করেছে। 
 
এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ রবিবার বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা নিরসনে মস্কোর সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।  তিনি বলেন, তার (টিলারসন) প্রাথমিক আগ্রহ ছিল রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন  নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষিতে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর বিষয়ে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, টিলারসনকে রাশিয়ার পদক্ষেপের বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
 
গত বুধবার ট্রাম্প কংগ্রেসে পাস হওয়া রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার বিলে স্বাক্ষর করেন। যদিও তিনি বিলটিকে ত্রুটিপূর্ণ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। এই নিষেধাজ্ঞার মূল কারণ হল, ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার কথিত হস্তক্ষেপ। এছাড়া এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাশিয়া কর্তৃক ইউক্রেনের ক্রিমিয়া দ্বীপ দখলের ঘটনা। এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে রাশিয়াকে শাস্তি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায় মার্কিন কংগ্রেস। 
 
এদিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নতুন নিষেধাজ্ঞাকে মস্কোর বিরুদ্ধে ‘পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য যুদ্ধের’ ঘোষণা বলে আখ্যায়িত করেন রুশ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ। মার্কিন কংগ্রেসে নিষেধাজ্ঞার বিলটি পাস হওয়ার পরই পাল্টা পদক্ষেপ নেয় রাশিয়া। দেশটিতে দায়িত্বপালনরত ৭৫৫ মার্কিন কূটনীতিককে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মস্কো দূতাবাস ছাড়াও একাতেরিনবার্গ, ব্লাদিভোস্তোক ও সেন্ট পিটার্সবার্গে কনস্যুলেটগুলো থেকেও কূটনীতিককে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেন পুতিন। বিবিসি ও রয়টার্স।
 
ইত্তেফাক/সাব্বির