কীর্তনখোলা নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়ন। এক রাতেই ২৭টির বেশি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানসহ একটি মাদ্রাসার অংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারো চরকাউয়া বাজারে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন।
ওই এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী রহমান জানান, রবিবার রাতে দোকানপাট বন্ধ করে যখন বাড়ি ফিরবেন, ঠিক সেই সময়ে চরকাউয়া বাজারে ভাঙন শুরু হয়। মুদি, মনোহারি, হোটেল ও রেস্তোরাঁ মিলিয়ে ২৭টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়।
হামিদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শ্রেণীকক্ষসহ ৪টি ভবন বিলীন হয়েছে। অন্য ভবন ঝুঁকির মধ্যে থাকায় সাত শতাধিক শিক্ষার্থীর এই মাদ্রাসার ক্লাস আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
জেলা পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য (সদর-মহানগর) মুনাওয়ারুল ইসলাম অলি জানান, চরকাউয়া ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে গেল বছরও ১২ লাখ টাকার কাজ করেছেন নদী ভাঙন ঠেকাতে। তিনি অভিযোগ করেন ভাঙনরোধে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা পানি উন্নয়ন বোর্ড দুই বছরেও নেয়নি। ভাঙনে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভাঙন মাত্র ৬ ফুট দূরত্বে, ভাঙন চলমান থাকায় এই ভবনও বিলীন হবে। তিনি জানান, অব্যাহত ভাঙ্গনের মুখে সদর উপজেলার চরবদনা মৌজা বিলীন হয়ে গেছে। চরকাউয়ার ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, বাজার, বাসস্ট্যান্ড, খেয়াঘাট, সাতানি, নয়ানি যে কোনো সময় বিলীন হয়ে যাবে।
বন্দর থানা পুলিশ জানান, দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আশপাশের সকল মানুষকে সরে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখনও নদী তীর লাগোয়া রয়েছে সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গতঃ নগরসংলগ্ন চরবাড়িয়া, চরমোনাই, চরকাউয়া, চরআইচা ও চরবদনার অব্যাহত ভাঙনে ইতিমধ্যে বিপুল সংখ্যক মসজিদ, স্কুল, ইটভাটাসহ কয়েক হাজার ঘরবাড়ি কীর্তনখোলা নদীতে বিলীন হয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমের ভাঙনে নগর সংলগ্ন চরকাউয়া, চরআবদানি, কালিজিরা পয়েন্ট হুমকির সম্মুখীন। আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের কালিগঞ্জ, রাজাপুর ও আটহাজার গ্রাম বহুআগেই বিলীন হয়ে গেছে। এসব গ্রামের এখন আর কোনো অস্তিত্ব নেই।
ইত্তেফাক/নূহু
