মোহনগঞ্জে প্রবাসী খুনের ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীসহ গ্রেফতার ৩

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০১৭, ২৩:৪৭

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে প্রবাসী যুবক খুনের ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা হলো, মোজাম্মেল হক (২৮), আখি আক্তার ঝুমা (২৪) ও ঝুমার ভাই জাকিরুল(২৬)। এদের মধ্যে মোজাম্মেল ও ঝুমা দুজন স্বামী-স্ত্রী।

সোমবার রাতে সিলেট শহরের কোরাইশী আবাসিক হোটেল থেকে মোজাম্মেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী নারায়গঞ্জের নবীগঞ্জ থেকে ঝুমাকে এবং ঢাকার রামপুরা থেকে জাকিরুলকে গ্রেফতার করা হয়।

উপজেলার বড়তলী-বানিয়হারী ইউনিয়নের সুখদেবপুর গ্রামের মৃত লাল চানের প্রবাসী সন্তান রফিকুল ইসলাম রুবেলের (৩৫) গলাকাটা লাশ উদ্ধারের পর রুবেলের স্ত্রী মোসা. পপি আক্তারের অপহরণ মামলার সূত্র ধরে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, আসামীদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে খুনের সময় ব্যবহার করা মরিচ বাটার পাটা, শিল ও বটি’দা জব্দ করা হয়। এ সময় রুবেলের নিকট থেকে হাতিয়ে নেয়া স্বর্ণালংকার  উদ্ধার করে পুলিশ।

ডিএমপির ওয়ারি বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ফরিদ উদ্দিন ও ডেমরা জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার ইফতে খাইরুল ইসলাম জানান, আসামি ঝুমা ও তার স্বামী মোজাম্মেল রুবেল হত্যার দায় স্বীকার করেছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যার ঘটনা স্বীকার করলে তাদের মঙ্গলবার সিএমএম কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুজ্জামান আনসারী ও ম্যাজিস্ট্রেট সাদ্দির ইয়াসির আহসানের আদালতে হাজির করা হলে আসামিরা ১৬৪ ধারায় খুনের দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বিজ্ঞ বিচারকদ্বয় আসামিদের জবানবন্দি রেকর্ড করে তাদের জেল হাজতে প্রেরনের নির্দেশ দেন।

জানা গেছে, গত ১৭ জুলাই রুবেল মোহনগঞ্জ উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে ঢাকার যাত্রাবাড়ি এলাকার গোলাপবাগে বন্ধু পলাশের বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। বন্ধুর বাসায় ২দিন অবস্থান করার পর গত ১৯ জুলাই সকালে পূর্ব রামপুরার চাচতো ভাইয়ের মেয়ে আখি আক্তার ঝুমার বাসায় যায়। তারপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। গত ২১ জুলাই রুবেলের ভাতিজা ওয়াসিম যাত্রাবাড়ি থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পরবর্তীতে গত ১ আগস্ট নিখোঁজ রুবেলের স্ত্রী মোসা. পপি আক্তার একই থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

মোহনগঞ্জ থানার ওসি জিয়াউর রহমান জানান, বাহরাইন প্রবাসী রফিকুল ইসলাম রুবেল ২৮জুন দেশে ফিরেন। এরপর ১৯ জুলাই ঢাকায়  তিনি নিখোঁজ হন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বিল্লাল আল আজাদ জানান, রুবেলকে হত্যা করার পর পূর্ব রামপুরা এলাকায় বাসা পরিবর্তনের নামে ঝুমা ও তার স্বামী মোজাম্মেল বাসার কিছু মালামালের সঙ্গে রুবেলের লাশ একটি বড় ট্রাংকে ভরে বাসায় তালা ঝুলিয়ে ট্রাকে করে মোজাম্মেলের গ্রামের বাড়ী মোহনগঞ্জের সুতারপুর নিয়ে আসে। পরে বিভিন্ন তথ্য অনুসন্ধানের পর মোহনগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় গত ২আগষ্ট রুবেলের গলাকাটা গলিত লাশটি তার নিজ গ্রামের পার্শ্ববর্তী সুতারপুর গ্রামের একটি পতিত জমি থেকে মাটি চাপা দেয়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে  আসামিরা আত্মগোপন করে।

ইত্তেফাক/নূহু