ঝিনাইদহ জেলায় মহাসড়ক, আঞ্চলিক মহাসড়ক ও গ্রামীণ সড়কগুলো ভেঙে গেছে। সড়কে সৃষ্টি হয়েছে খানা-খন্দ ও গর্তের। ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। অভিযোগ মেরামত কাজে ফাঁকি দেওয়ার জন্য সড়কগুলো টে্কসই হচ্ছে না। এমনো দেখা গেছে কোনো কোনো স্থানে মেরামতের পর দুই মাস না যেতেই রাস্তা ভেঙে-চুরে গেছে। এ জেলার অধিকাংশ সড়কের মালিক সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও এলজিইডি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মোট রাস্তার পরিমাণ ৪০৬ দশমিক সাত কিলোমিটার। এরমধ্যে হাইওয়ে আছে ৫০ কিলোমিটার। আঞ্চলিক হাইওয়ে আছে ২৭৬ দশমিক সাত কিলোমিটার ও ৮০ কিলোমিটার অন্যান্য সড়ক। গত অর্থবছরে (২০১৬-২০১৭) রাস্তা মেরামতে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। শেখপাড়া থেকে বারোবাজার ও ঝিনাইদহ থেকে হাটগোপালপুর হাইওয়ে ভেঙেচুরে একাকার হয়ে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে খানা-খন্দ ও গর্তের। সম্প্রতি টানা বৃষ্টির পর সড়কের অবস্থা আরো বেশি খারাপ হয়েছে। মেরামতের পর দুই মাস পার না হতেই পিস খোয়া উঠে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে গর্তের। এলাকাবাসীর অভিযোগ মেরামত কাজে ফাঁকি দেওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নিম্নমানের পিচ ব্যবহার করা হয়েছে। কম ভারি রুলার ব্যবহার ও কার্পেটিং ও সিলকোটের থিকনেস কম করা হয়েছে। অতিরিক্ত পণ্যবাহী ট্রাক যাতায়াতের জন্য রাস্তা টেকসই হচ্ছে না। ৩৫-৪০ টন পণ্যবাহী ট্রাকও চলাচল করে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর মোবাইল ফোনে বার বার রিং দিলেও ধরেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) রাস্তার সংখ্যা ২ হাজার ৩’শ ৫৮টি। রাস্তার মোট দৈর্ঘ ৫ হাজার ৬’শ ৫২ কিলোমিটার। পাকা ও হেরিংবোন রাস্তার সংখ্যা ৭৫টি। বাকি রাস্তাগুলো কাঁচা।
পাকা ও হেরিংবোন রাস্তার মোট দৈর্ঘ ২ জাজার ৪৮ কিলোমিটার। রাস্তা মেরামতে গত অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৩৬ কোটি ৭০ লাখ ৮১ হাজার টাকা। এ টাকা দিয়ে এক’শ ৪২ কিলোমিটার রাস্তা মেরামত করা হয়েছে। নিয়ম আছে রাস্তা নির্মাণের পর প্রতি চার বছর অন্তর অন্তর মেরামত করার। দেখা যায়, অনেক রাস্তা নির্মাণের পর একবারও মেরামত করা হয়নি। এসব রাস্তার ওপর থেকে পিচ উঠে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে খানা-খন্দ ও গর্তের। গত অর্থবছরে ৬০ কোটি টাকা ব্যয় করে দেড়’শ কিলোমিটার নতুন পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।
এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, পিচের রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমলে ভেঙেচুরে যায়। তিনি জানান, গ্রামীণ এসব রাস্তার ভারবহন ক্ষমতা ১০ টন। সে ক্ষেত্রে ৩৫-৪০ টন পণ্য বোঝাই ট্রাক চলাচল করছে। এতে রাস্তা টেকানো যাচ্ছে না।
ইত্তেফাক/নূহু
