রাজশাহীর পুঠিয়ার 'আল মাহদী ইসলামিয়া হাসপাতাল' নামে এক ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় পেটের ভেতরে থাকা নবজাতক ও প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এতে ক্লিনিক মালিকসহ সাতজনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মৃত প্রসূতির স্বামী আলম সরদার বাদী হয়ে পুঠিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় 'আল-মাহদি ইসলামিয়া হাসপাতাল' থেকে আটক নার্স মারুফা খাতুনকে (২৫) ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মারুফা খাতুন চারঘাট উপজেলার বাসিন্দা ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের শিশু বিভাগের নার্স। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত রাকিবুল হাসান।
এদিকে ঘটনার পর ক্লিনিকটি পরিদর্শন করেন পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. নাজমা নাহার। পরে তিনি ক্লিনিকটি সিলগালা করার নির্দেশ দেন।
জানা যায়, 'আল-মাহদি ইসলামি হাসপাতাল' পরিচালনা করেন জনৈক মুনসুর রহমান এবং ক্লিনিকে কোনো ডাক্তার ছাড়াই অপারেশন করাতেন ক্লিনিকের পরিচালক মুনসুর রহমান নিজেই। গত বুধবার বিকেলে উপজেলার ধোপাপাড়া এলাকার আলম সরদারের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী পান্না বেগমের (২৮) প্রসবযন্ত্রণা উঠলে তিনি এলাকার এক দালালের মাধ্যমে ওই ক্লিনিকে তার স্ত্রীকে নিয়ে আসেন।
বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রোগীর অবস্থা ভালো নয় বলে দ্রুত অপারেশন করাতে বলেন মুনসুর রহমান। তারপর পান্না বেগমকে সিজারিয়ান করাতে ক্লিনিকের অপারেশন টেবিলে নিয়ে যায়। কিন্তু অপারেশন টেবিলে নিয়ে যাওয়ার আধা ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রোগীর স্বজনরা অপারেশন টেবিলে গিয়ে দেখেন কক্ষটি তালাবন্ধ। ক্লিনিকে কেউ নেই, সবাই পালিয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় কক্ষটির তালা ভেঙে প্রসূতি পান্না বেগমের লাশ অপারেশন টেবিলে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মৃত প্রসূতি পান্না বেগমকে মুনসুর রহমান নিজেই অপারেশন করতে গিয়ে ভুল চিকিৎসায় মেরে ফেলেন। এঘটনায় ক্লিনিক মালিকসহ জড়িতদের বিচার দাবি করেন মৃত পান্না বেগমের স্বামী আলম সরদার।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) পুঠিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাকিবুল হাসান বলেন, আটক ক্লিনিকের নার্স মারুফা খাতুনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত থাকবে। আটক নার্সকে রিমান্ডে নেয়া হবে কি না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। আপাতত তাকে বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।
ইত্তেফাক/জামান
