‘পদ্মা নদী ভাঙন আমারে ক্ষমা করল না’

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৭, ১৭:৫২

‘সর্বনাশা পদ্মা আমাকে ক্ষমা করল না, বাইচা থাকার মতো করে মাথা গোজার শেষ সম্বল ঘর, ভিটে মাটি টুকু কাইড়া নিলো। এখন পোলা দুইডা আর পরিবার নিয়া কোথায় আশ্রয় নিব। পদ্মা নদী বার বার আমার সবই কাইড়া নিলো। বেঁচে থেকেও মরে গেছি আমরা। 

 

কথাগুলো বলছিলেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলাধীন দৌলতদিয়া ইউনিয়নের দৌলতদিয়া দুই নম্বর ফেরিঘাট এলাকার ছিদ্দিক কাজী পাড়া গ্রামের নদী ভাঙনে সর্বহারা বাবু ভূঁইয়া ও তার স্ত্রী মাজেদা বেগম। 

 

নদী ভাঙনে সর্বহারা শারীরিক প্রতিবন্ধী বাবু ভূঁইয়ার সঙ্গে জানা গেছে, কুমিল্লায় জেলায় তার বাড়ি-ঘর সবই ছিল। সেখানকার একটি কাঠ চেরাই করার ‘স’ মিলে কঠোর পরিশ্রম করে অর্থ উপার্যজন করে জীবিকা নির্বাহ করতো। ভাগ্যের পরিহাসে একদিন ‘স’ মিলে কাঠ চেরাই করতে গিয়ে গাছের গুড়ির আঘাতে তার দুটি পা হারিয়েছে। সহায় সম্বল বিক্রি করে চিকিৎসা করালেও পা দুটি ভাল করা সম্ভব হয়নি তার। জীবন যুদ্ধের খাতায় পঙ্গুত্বের নাম লিখিয়ে বেঁচে আছে তিনি। 

 

নিজের চিকিৎসা করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায় বাবু ভুইয়া। বর্তমান তিনি মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পেতে ভিক্ষা করে তার সংসার চালান। ৫ বছর আগে স্ত্রী পুত্র নিয়ে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলাধীন দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের পাশে সরকারি খাসের জমিতে বসতি স্থাপন করে। প্রায় তিন বছর পূর্বে পদ্মা নদীর কড়াল গ্রাসে সেখান থেকে বিতারিত হয়ে ২নং ফেরি ঘাটের এ্যাপ্রোস সড়কের পাশে ঘর তোলেন।

 

গত মাস খানেক আগে এক গভীর রাতে রাক্ষুসী পদ্মা তার মাথা গোজার ঠাঁইটুকু মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে গ্রাস করে ফেলে। 

 

দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, প্রতিবন্ধী বাবু ভুইয়া আমার ইউনিয়নে ফেরি ঘাট এলাকার বাসিন্দা। মাস খানেক আগে পদ্মা নদী ভাঙনে শিকারে নিঃশ্ব হয়ে গেছে। শুধু বাবু নয়, গত কয়েক বছরে আমার ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবারই চাষের জমিসহ ভিটে মাটি হারিয়েছে। 

 

দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতর আলী সরদার জানান, নদী ভাঙনে আমার ইউনিয়নে গত কয়েক বছরে কয়েক হাজার পরিবার ভিটে মাটি হারিয়েছে। তাদের অনেকেই এখনো বাড়ি ঘর করতে পারে নাই।

 
ইত্তেফাক/ইউবি