গত চার দিনের অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ধরলা নদীর পানি ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়ে প্লাবিত হয়েছে নতুন নতুন এলাকা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে নদী-তীরবর্তী কয়েক হাজার পরিবার।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, কুলাঘাট পয়েন্টে ধরলার নদীর পানি সকাল নয়টায় বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে হঠাৎ পানি বৃদ্ধির কারণে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
শনিবার সকালে বন্যা উপদ্রুত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার গোরকমন্ডল, নামাটারী, পুরাতন আবাসন, চর গোরকমন্ডল, ঝাউকুটি, ঝামাকুটি, কিশামত শিমুলবাড়ী, পেচাই, চর শিমুলবাড়ী, যতিন্দ্রনারায়ন, সোনাইকাজী, কবিরমামুদ, রামপ্রসাদ, মরানদী, পূর্ব ও পশ্চিম ধনিরাম, চর বড়ভিটা, চর বড়লই, চর রাঙ্গামাটি, চর মেখলিসহ প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এসকল গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার। তলিয়ে গেছে শত শত হেক্টর জমির আমন ক্ষেত। ভেসে গেছে নদী সংলগ্ন মৎস্য খামারগুলোর লাখ লাখ টাকার মাছ। হুমকির মুখে রয়েছে গোরমন্ডল, চর গোরকমন্ডল ও সোনাইকাজী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। সকালের মধ্যেই বানভাসি মানুষ গরু ছাগল হাঁস মুরগীসহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও উঁচু এলাকার বিভিন্ন বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছে।
গোরকমন্ডল বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নেয়া আব্দুল হামিদ, রফিকুল ইসলাম বানেছা বেগম জানান, হঠাৎ করে বন্যা আসায় নিম্নাঞ্চলের পরিবার গুলো পূর্বপ্রস্তুতি নেয়ার সময় পায়নি। আর বন্যার পানি বেড়েই চলছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে বন্যা পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে।
ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবেন্দ্রনাথ উরাঁও জানান, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্দেশে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবরকম প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বন্যায় প্লাবিত এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ইত্তেফাক/এমআর
