বগুড়ায় মা-মেয়ে নির্যাতন মামলার চাজশিট শিগগিরই

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০১৭, ১৮:০৩
বগুড়ায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও মা-মেয়েকে শারীরিক নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া দুটি  মামলার অভিযোগপত্র চলতি মাসর শেষ সপ্তাহে অথবা সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতেই  আদালতে দাখিল করবে পুলিশ। 
 
মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, দ্রুত আলোচিত মামলা দুটির অভিযোগপত্র দেয়ার চেষ্টা চলছে। অর্থাৎ চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে অথবা সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতেই অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে। 
 
মামলা দুটিতে প্রধান অভিযুক্ত শ্রমিকলীগ নেতা তুফান সরকার ও নারী কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকিসহ ১১ জন বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে। 
 
তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ জানান, কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় দায়েরকৃত পৃথক দুটি মামলায় তুফান সরকার, তার স্ত্রী, শ্যালিকা কাউন্সিলর রুমকি এবং শাশুড়িসহ ১০ জনকে অভিযুক্ত করে দায়ের করা হয়েছিল। অভিযুক্তদের রিমান্ডে  তথ্য ও উপাত্ত পাওয়া গেছে। এছাড়া তুফানের সহযোগী আতিক, মুন্না এবং নরসুন্দর (নাপিত) জীবর রবিদাস আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারেক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। ভিকটিমের মেডিকেল রিপোর্ট এবং ২২ ধারায় প্রদত্ত জবানবন্দি রয়েছে। ফলে মামলা দুটির অভিযোগ প্রমাণ করার যথেষ্ট তথ্য পুলিশের হাতে রয়েছে। চলতি মাসের শেষের দিকে মামলা দুটির তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কোন কারণে না পারলে আগামী মাসের শুরুতেই দেয়া হবে।
 
প্রসঙ্গত, ১৭ জুলাই ভালো কলেজে ভর্তির কথা বলে সদ্য মাধ্যমিক পাস করা এক শিক্ষর্থীকে বাসায় এনে ধর্ষণ করেন বগুড়া শহর শ্রমিকলীগের আহ্বায়ক (বর্তমানে বহিষ্কৃত) তুফান সরকার। এরপর শুক্রবার বিকেলে তুফানের স্ত্রী আশা, তার বড় বোন বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকিওমা রুমি বেগমসহ তাদের সহযোগীরা কাউন্সিলরের চকসুত্রাপুর এলাকার বাসায় শালিসের নামে  মা-মেয়ের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে নাপিত ডেকে মা-মেয়েকে ন্যাড়া করে দেয়।
 
ইত্তেফাক/ইউবি