রাজশাহী ও চাঁপাই সীমান্তে ভারতীয় গরু আমদানি বেড়েছে

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৭, ১৫:১৮
ঈদ-উল আযহাকে সামনে রেখে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত পথে ভারতীয় গরু আমদানি বেড়েছে। রাজশাহীর পবা, মতিহার, গোদাগাড়ী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের অহেদপুর ও রঘুনাথপুর সীমান্তে সরকার অনুমোদিত বিট/খাটাল দিয়ে ভারত থেকে প্রতিদিন গরু আসছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, গরু আমদানি তত বাড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
 
গরু ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার ভারতীয় গরু আমদানি ৪/৫ গুণ বেশি। এভাবে ঈদ পর্যন্ত ভারতীয় গরু আমদানি অব্যাহত থাকলে এবার কোরবানীর গরুর দাম মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যেই থাকবে। তবে এ খাতে বিটগুলোতে সরকার নির্ধারিত ফি’র চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ করতে হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। 
 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভারত থেকে গরু আমদানির অন্যতম রুট হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত। প্রায় সারা বছরই চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত পথে ভারতীয় গরু বাংলাদেশে আসে। বর্তমানে ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে গরু আসার পরিমাণ ব্যাপক হারে বেড়েছে। সরকারি শুল্ক ফাঁকি রোধ ও গরু আনার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বছর চারেক আগে জেলার বিভিন্ন সীমান্তে ১০টির মত বিট/খাটালের অনুমোদন দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
 
বিট/খাটালের নিয়ম অনুযায়ী সীমান্তের জিরোপয়েন্ট থেকে ভারতীয় রাখালরা গরুর চালান বাংলাদেশি রাখালদের কাছে হস্তান্তর করে। পরে সেই গরুগুলো বিটে রাখা হয়। এরপর সরকারি শুল্ক বাবদ গরু প্রতি ৫শ টাকা ও বিট কর্তৃপক্ষকে ৫০ টাকা পরিশোধ করে গরু দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান ব্যবসায়ীরা। বিট/খাটাল চালু হওয়ায় অবৈধ পথে গরু আনার পরিমাণ প্রায় শূন্যের কোটায় চলে আসে। এতে করে সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর হারও কমে গেছে। তবে গরুর সাথে মাদক ও অস্ত্র আসে এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবছর সদর উপজেলার আখরআলী, বকচর, জোহরপুর, জোহরপুর ট্যাকসহ অধিকাংশ বিট/ খাটালের অনুমোদন দেয়নি মন্ত্রণালয়।
 
বর্তমানে সরকারি অনুমোদিত শিবগঞ্জ উপজেলার অহেদপুর ও রঘুনাথপুর বিট দিয়ে আসছে ভারতীয় গরু। প্রতিদিন এই দুটি বিট দিয়ে গড়ে সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার গরু আসছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
 
কাস্টমস সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে কোরবানির ঈদের আগে জুলাই ও আগস্ট মাসে একমাত্র চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত পথে ১২ হাজার ৭৯৮টি গরু এসেছিল। অথচ এবছর শুধু জুলাই মাসেই গরু এসেছে ৬৮ হাজার ৫০১টি। যা গতবছরের চেয়ে ৪/৫ গুণ বেশি।
 
শিবগঞ্জ উপজেলার অহেদপুর বিটের পরিচালক মানিরুল ইসলাম কালু জানান, দু’দেশের ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গরু আসায় চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপশি গরু আমদানি বেড়েছে। ঈদের আগের দিনগুলোতে গরু আমদানির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা। 
 
রঘুনাথপুরের গরু ব্যবসায়ী আনারুল ইসলাম জানান, সরকারি শুল্ক পরিশোধের পর আমদানিকৃত ভারতীয় গরু বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হয় জেলার রামচন্দ্রপুরহাট, মনাকষা ও তত্তিপুরহাটে। এছাড়া রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী চট্রগ্রাম, রাজশাহীর সিটি হাটসহ বিভিন্ন জেলায় এসব গরু বিক্রি করা হয় বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, ভারতীয় গরু আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার কোরবানির গরুর দাম স্বাভাবিক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
 
এদিকে বিট মালিকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন গরু ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে গরু প্রতি আড়াইশ টাকা করে বেশি আদায় করছেন বিট মালিকরা। 
 
এ ব্যাপারে রঘুনাথপুরের ব্যবসায়ী সেরাজুল ইসলাম জানান, সরকারি শুল্ক ও বিট ব্যবস্থাপনা ফিসহ গরু প্রতি ৫৫০ টাকা করে আদায় করার কথা। কিন্তু এখানে গরু প্রতি ৮০০ টাকা করে আদায় করছেন বিট মালিকরা। কখনো কখনো একহাজার থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগে জানান ব্যবসায়ীরা।
 
তবে বিটে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন রঘুনাথপুর বিটের পরিচালক মো. বাবু বিশ্বাস। তিনি বলেন, অতিরিক্ত ফি নেয়ার কোন সুযোগ নেই। সরকার নির্ধারিত হারে ফি আদায় করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে রাজশাহীর ঘাটগুলো থেকেও অতিরিক্ত অর্থ আদায় হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে গরু ব্যবসায়ীরা। এখন গরু প্রতি এক থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন খাটাল মালিকরা। এতে করে গরু আসার হার বাড়লেও ঈদে দাম কমার তেমন সুযোগ থাকছে না বলেও অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
 
ইত্তেফাক/এমআই