লালমনিরহাটের পাটগ্রাম-বুড়িমারী স্থলবন্দর রেললাইনে বন্যায় একাধিক স্থানে ভাঙন দেখা গেছে। এতে রবিবার সকাল থেকে ওই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বুড়িমারী স্থলবন্দরে একটি লোকাল ট্রেন আটকা পড়েছে। অন্যদিকে, তিস্তা ও সানিয়াজান নদীর পানি কমলেও ধরলা নদীর পানি অপরিবর্তিত রয়েছে।
রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, রবিবার সকাল থেকে বুড়িমারী রেলওয়ে স্টেশন থেকে পার্বতীপুরগামী কমিউটার এক্সপ্রেস ট্রেন, সান্তাহার থেকে ছেড়ে আসা বুড়িমারীগামী ট্রেনটির সিডিউল বাতিল করা হয়েছে। প্রতিদিন ৮টি ট্রেন চলাচল করে এ রুটে। ফলে বুড়িমারী-লালমনিরহাট-রংপুর-সান্তাহার-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
রেলওয়ে সূত্র আরও জানায়, এসব ট্রেন সান্তাহার ও কাউনিয়া রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকাগামী রংপুর এক্সপ্রেস, নীলসাগর, দ্রুতযান ও সীমান্ত এক্সপ্রেসে যাত্রীদের তুলে দিতো। কিন্তু ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় লোকজন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বুড়িমারী স্থলবন্দরের শিপইয়ার্ড, শেড ও বন্দর এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ায় গত দুই দিন ধরে আমদানি-রফতানি বন্ধ রয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার নাজমুল ইসলাম বলেন, 'ভয়াবহ বন্যায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী স্থলবন্দর রেলওয়ে রুটের ৭৮ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে তিনটি স্থানে ভেঙে গেছে। একটি লোকাল ট্রেন বুড়িমারী স্থলবন্দরে আটক পড়ে আছে। অন্যসব ট্রেনের সিডিউল বাতিল করা হয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার পর এ রুটের ভাঙা স্থানগুলো সংস্কার করে আবার ট্রেন সার্ভিস চালু করা হবে।' তবে কবে নাগাদ ট্রেন সার্ভিস চালু করা সম্ভব হবে তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।
অপরদিকে, বন্যায় সবচেয়ে বেশি প্লাবিত জেলার হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। গৃহপালিত পশু, বৃদ্ধ ও শিশুরা পড়েছেন বিপাকে। জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, হাতীবান্ধা উপজেলায় নগদ দুই লাখ টাকা, ৪৫ মেট্রিক টন চাল, চার হাজার শুকনা খাদ্য সামগ্রী পাটগ্রাম উপজেলায় নগদ ৭৫ হাজার টাকা, ৩০ মেট্রিক টন চাল বন্যার্ত মানুষদের মাঝে বিতরণ করার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/জামান
