উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবর্ষণে তিস্তা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলগুলোতে বন্যা দেখা দিয়েছে। গংগাচড়ার নোহালী ও লক্ষিটারী ইউনিয়নে বন্যাদূর্গত মানুষকে উদ্ধারে সেনাবাহিনী কাজ করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য সেনাবাহিনী কাজ করছে। দুই ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সেনাবাহিনীকে উদ্ধার অভিযানে সহযোগিতা করছেন বলে তিনি জানান।
এদিকে, গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়া উপজেলার তিস্তার চরাঞ্চলের প্রায় ১ লাখ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে ভাঙন। স্রোত ও ভাঙনে তিস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দিরসহ প্রায় ৩’শ ঘরবাড়ি। তিস্তা ব্যারেজসহ নদীর আশেপাশের এলাকাগুলোতে রেডঅ্যালার্ড জারি করে বন্যা কবলিতদের নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। পানির স্রোতে গংগাচড়া উপজেলার মর্ণেয়ায় ২ শিশু ভেসে গেছে বলেও জানা গেছে।
পানিবন্দি পরিবারগুলোর অনেকেই তাদের আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে, উঁচু রাস্তা কিংবা বাঁধের ধারে আশ্রয় নিয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়ে ওইসব পরিবারের মাঝে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের অভাব। তাদের মাঝে পৌঁছায়নি কোন জরুরী ত্রাণ সহায়তা। তবে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানিবন্দি পরিবারগুলোর মাঝে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন গঙ্গাচড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলু। তিনি আরো জানান, পানিবন্দি পরিবারগুলোর মাঝে চাউল, ডালসহ শুকনা খাবার ও নগদ টাকা বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
জানা যায়, গত কয়েকদিনের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবর্ষণে তিস্তা নদীতে তিস্তা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতি, শুক্র ও গতকাল শনিবার এবং আজ রবিবার দিনভর অব্যাহত বৃষ্টিপাতে তিস্তা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়া উপজেলার তিস্তার চরাঞ্চলের আরাজি হরিশ্বর, চরঢুষমারা, চরগনাই, পাঞ্জরভাঙ্গা, পূর্ব নিজপাড়া, চরগদাই, বিশ্বনাথচর, টাপুরচর, চর আজম খাঁ, প্রাণনাথচর, পল্লীমারীর চরতালপট্টি, আরাজি নিয়ামত, হেছানটারী, নরসিংহ, আলফাজ উদ্দিনপাড়া, শংকরদহ, বিনবিনা চর, আলালের চর, মর্ণেয়ার চর, ছাবেদ মেম্বারপাড়া, চর ঈশ্বরকূল, পাইকান, হাজিপাড়া, বাঘডোহরার চর, ব্যাংকপাড়া, পীরেরপাড়, সাউদপাড়া, চিলাখাল, চর চিলাখাল, হাজীপাড়া, পীরপাড়াসহ তিস্তার চরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৯০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও শহর প্রতিরক্ষা বাঁধ এবং তিস্তা নদী সংলগ্ন অনেক বাড়িঘর কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে। ঘরের ভিতরে পানি ঢুকে পড়ায় ওইসব পবিবারের মানুষজনসহ পশু-পাখিকে আশ্রয় নিতে হয়েছে চৌঁকি ও মাচার উপর। পানিবন্দি পরিবারগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র ছুটছে।
অনেকেই তাদের আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে, কেউ ফ্লাড সেন্টার, উঁচু রাস্তা কিংবা বাঁধের ধারে আশ্রয় নিয়েছে। গৃহপালিত পশু-পাখিসহ পানিবন্দি পরিবারগুলো জ্বালানী, পানীয়জল ও খাদ্য সংকটে ভুগছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির চরম অবনতির আশংকায় ওইসব এলাকার মানুষজন সহায়-সম্বল নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। সেই সাথে তিস্তার চরাঞ্চলে বেড়েছে ভাঙনের তীব্রতাও।
ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে চরাঞ্চলের বাদশা মুহুরি, আব্দুল হালিম, হাকিম, কাশেম, হারুন, আজাদ, আশরাফ, মিস্টার, জামাল, নাজমা, সাইদ, মরিয়ম, হাফেজ, আমজাদ, ইউনুছ, সাহার অনেকের প্রায় ৩’শ ঘরবাড়ি। হুমকির মুখে রয়েছে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, মুলবাঁধ ও ফসলের জমি।
ইত্তেফাক/নূহু
