ফুলবাড়ীতে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, ২ জনের মৃত্যু

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৭, ১০:২৯
 
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। তিন দিন অতিবাহিত হলেও আজ সোমবার সকাল নয়টায় কুলাঘাট পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ১৩২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে । সব কয়টি নদীর পানি অপরিবর্তিত থাকায় লক্ষাধিক লোক পানিবন্দি অবস্থায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এদিকে গত রবিবার বিকালে বন্যার পানিতে ডুবে ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের নজরমামুদ এলাকায় আজাহার আলী(৭০) ও সন্ধ্যায়  উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের ঘোগারকুটি এলাকায় হালিমা বেগম(৩৫) নামের দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। হাজার হাজার পানিবন্দি মানুষ প্রায় ত্রিশটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।
 
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কৃষ্ণ কমল চন্দ্র জানিয়েছেন, ধরলা নদীর পানি ২ সেন্টিমিটার কমলেও বিপদসীমার ১৩২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
 
এদিকে ভয়াবহ বন্যায় বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ায় পাকা রাস্তা ,বাঁধ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেয়া মানুষের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। রান্নাঘর তলিয়ে যাওয়ায় শুকনা খাবার খেয়ে কোন রকমে দিন যাপন করছেন তারা। টয়লেট তলিয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন মহিলারা। বন্যা উপদ্রুত এলাকায় গবাদি পশুর চরম খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। পানি বৃদ্ধির সাঙ্গে মুষলধারে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়া, নাগদহ, আটিয়াবাড়ী, সুজনেরকুটি, রাবাইতারীসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে।
 
অনেক জায়গায় পাকা রাস্তা, বাঁধ ভেঙ্গে বা উপচিয়ে প্রবল স্রোতে বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ায় উপজেলা সদরের সঙ্গে সবকয়টি ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় ১০৫ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে বলে শিক্ষা অফিস সূত্র জানিয়েছে।
 
অনেক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে আসতে না পারায় ঘরের মধ্যেই মাচা তৈরি করে অবস্থান করছে। ফলে বন্যা উপদ্রুত এলাকায় এবং আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে ত্রাণ সরবরাহ জরুরী হয়ে পড়েছে। গত তিন দিনে সরকারী বেসরকারি সংস্থাকে বন্যা কবলিত এলাকায় তেমন ত্রাণ দিতে দেখা যায়নি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুএকটি এলাকায় কিছু শুকনা খাবার বিতরণ করা হলেও তা পরিমাণে খুবই সামান্য। 
 
ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবেন্দ্রনাথ উরাঁও জানিয়েছেন,উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের সামান্য কিছু এলাকা বাদে সর্বত্রই বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। দুর্গত এলাকায় জরুরী ভিত্তিতে ত্রাণ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
 
ইত্তেফাক/এমআর