টাঙ্গাইলের সখীপুরে মানব পাচার চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো, সখীপুর পৌরসভার সৌখিনমোড় এলাকার মৃত মোজাফ্ফর আলীর ছেলে মজিবর রহমান (৬০), পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের আলতাফ হোসেন আল আব্বাসীর ছেলে নাসির আহমেদ আব্বাসী (২৪) এবং ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী গ্রামের মৃত সাগর আলীর ছেলে শাহজাহান আলী (৩৫)।
এর আগে আনিসুর রহমান নামে এক ব্যাক্তি গ্রেফতারকৃত তিনজনসহ আরও ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মানব পাচারের অভিযোগ এনে সখীপুর থানায় মামলা করেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ১১০ জনকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়া নেওয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ ১২ লাখ থেকে শুরু করে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত টাকা নেয় ওই পাচারকারী চক্রটি। এদের মধ্যে ১০৫ জন লোককে গত কয়েক মাসে অবৈধ পথে অস্ট্রেলিয়া নিয়েও যায় পাচারকারীরা।
সখীপুর থানায় পাচারকারীদের গ্রেফতারের খবরে শনিবার থানায় জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন জমা হতে থাকেন। তারা জানায়, সেখানে আরও টাকা দাবি করে তাদের জিম্মি করা হয়। অবৈধ ভিসায় তাদের লোকজন অস্ট্রেলিয়ার একটি দ্বীপ এলাকায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে বলেও দাবি করে তারা।
সখীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল হান্নানের মা নূরজাহান বেগম বলেন, তার ছেলের জন্য সাড়ে ১২ লাখ টাকা নিয়েছে পাচারকারীরা। রুহুল আমীনের স্ত্রী লাকি আক্তার বলেন, তার স্বামীর কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা নিয়েছে। আসলাম হোসাইনের স্ত্রী খাদিজা জাহান বলেন, তার স্বামীর কাছ থেকে ১২ লাখ এবং বগা গ্রামের নাসির উদ্দিনের চাচা নুরুল মিয়া বলেন, তার ভাতিজার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা নিয়েছে পাচারকারীরা।
তারা বলেন, এখন আমরা খুব চিন্তায় আছি। হাতিয়ে নেওয়া টাকাসহ কিভাবে তাদের লোকজন উদ্ধার করা যায় সে ব্যাপারে ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
সখীপুর থানার ওসি (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এএইচএম লুৎফুল কবীর বলেন, মানব পাচারের মামলায় ৩ জন আসামি গ্রেফতার করে শনিবার টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ মাঠে নেমেছে।
ইত্তেফাক/নূহু
