ইলিশ-পান্তা :হিরুর চিন্তা!

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৯, ২১:১৯

সাইফুল ইসলাম জুয়েল-এর

সকাল থেকেই হিরুর মায়ের মেজাজ গরম। কেউ ধারে-কাছে ঘেঁষলেই তড়িত্পৃষ্ঠের ন্যায় ফাল মেরে ওঠেন। মৃগী রোগীর মতো চোখ-মুখ খিঁচড়ে বিড়বিড় করে একনাগাড়ে কীসব যেন বলতে থাকেন!

রহস্যটা প্রথমে কেউ ধরতে পারেনি। হিরুর বাবা একবার ভেবেছিলেন ডাক্তার ডাকবেন। কিন্তু ডাক্তার এসে যদি এটা শনাক্ত করে বসে যে হিরুর মা ‘পাগল’ হয়ে গেছেন, তাহলেই সাড়ে সর্বনাশ! পুরো পাড়ায় তখন বৈশাখ আসার আগেই উত্সব শুরু হয়ে যাবে! ঝাঁক বেঁধে হিরুর মাকে দেখতে আসার উত্সব। রোজ রোজ তো আর মানুষ পাগল হচ্ছে না!

দিনের প্রথমার্ধে চলল রিমোটের ওপরে নির্মম অন্যাচার। টিভির জিরো থেকে সর্বশেষ নম্বরের চ্যানেল বারবার দেখা হয়েছে। এমনকি সার্চও দেওয়া হয়েছে অনেকবার। তারপর বেশি অত্যাচার সহ্য করতে না পরে রিমোট মহাশয় যখন পটল তুলল, তখন তিনি হুংকার দিয়ে উঠলেন। অন্যান্য সময়ে টিভির রিমোট নষ্ট হলে কিংবা ব্যাটারি ডাউন হলে চার-পাঁচ দিনের একটা গ্যাপ পড়ে। সচরাচর ওই সময়ের মধ্যে রিমোট ঠিক হয় না আর কী। বিনোদনের দরকার পড়লে হিরুর মায়ের ডিফল্ট টেলিভিশন চ্যানেলটাই কেবল অন-অফ বাটন টিপে দেখে নেয় সবাই। কিন্তু, এখন সেই উপায়ও নেই। চ্যানেল পাল্টে গেছে। জি-বাংলা চ্যানেল টিপে টিপে খুঁজে বার করে আনাটাও বিরাট ঝাক্কির এক কাজ বটে। হিরুর বাপ পরিস্থিতি বুঝে বিনা বাক্যব্যয়ে, বিনা শব্দদূষণে দুটো নয়, পুরো এক ডজন ব্যাটারি নিয়ে এসেছেন। তবুও তার মনে তীব্র শঙ্কা—যেভাবে দেদারসে রিমোট টিপাটিপি চলছে আজ, শেষমেশ দেখা গেল একডজনও কম হয়ে গেছে!

রিমোট সচল করার ফলেও কাজের কাজ কিচ্ছুটিই হলো না। দেশ-বিদেশের বাদবাকি সব চ্যানেলের অস্তিত্ব আছে, মাগার ভোজবাতির মতো উধাও হয়ে গেছে জি-বাংলা চ্যানেলটি! ওদিকে, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তার একেকটা প্রিয় শোয়ের নতুন এপিসোডগুলো অদেখাই রয়ে যাচ্ছে! পাশের বাসার ভাবির কাছে গিয়েও বারকয়েক অনুসন্ধান চালিয়েছেন তিনি। কিন্তু সাংবাদিকের কাছেই যদি সংবাদ না থাকে, পাঠক পত্রিকায় কী পড়বে? হিরুর মা সেখান থেকেও কোনো সদুত্তর পেলেন না। তিনিও তার মতো চিন্তিত। তবে, পরিমাণটা একটু কম। জি-বাংলার থেকে তিনি আবার স্টাল জলসাটাই বেশি পছন্দ করেন কি না!

রান্নাবান্না শিকেয় উঠল। সকালে ভাতটা চুলোয় তুলেছিলেন। সেগুলো পাতিলেই পড়ে রইল। হিরুর বাপ অনেকদিন ধরে অনলাইনে ফুড অর্ডার করার কথা ভাবছিলেন। কিন্তু গিন্নি থাকতে ঘরে বাইরের খাবার আনার মতো দুঃসাহস তিনি কখনো দেখাতে যাননি। গোপনে বাইরে মাঝেমধ্যে খেয়ে নিয়েছেন অবশ্য। বাইরের খাবার বাসায় এলেই হিরুর মা হয়তো তখন চেঁচিয়ে পুরো বাড়ি মাথায় তুলতেন, ‘মিনসে, আমার রান্না ভালো হয় না, না? যাও, আর রান্নাই করব না—এই বলে দিলুম।’ কিংবা হয়তো বিলাপ শুরু করে দিতেন, ‘আমার খাবারে অরুচি ধরে গেছে রে... ঘরে সতীন আসতে বুঝি আর দেরি নেই!’ খাল কেটে কুমির তথা খাবারওয়ালা ঘরে ডেকে এনে অশান্তি সৃষ্টি করার মতো বোকা হিরুর বাপ নন। তবে, আজকের বিষয়টা ভিন্ন। মনের আনন্দেই খাবার অর্ডার করলেন তিনি। পরিবারের সকল সদস্য সেই খাবার মজা মজা করে খেলোও বটে, অবশ্য একজন বাদে। এরমধ্যে অবশ্য হিরুর মা পাকা খবরটা পেয়ে গেছেন, তার প্রিয় জি-বাংলা চ্যানেল বন্ধ হয়ে গেছে! সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ঘোষণা দিলেন, ‘আগামী তিনদিন রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিটি ঘরে ঘরে শোক পালন করা হোক!’ এবং তিনি নিজেই এটা বাস্তবায়ন করতে চলেছেন!

হিরুর বাবা হিরুকে আড়ালে ডেকে নিয়ে বললেন, ‘তোর মা যদি আগামী তিনদিন কোনো রান্নাবান্না না করে, তাহলে ক্যামনে কী! বাইরের খাবার একবেলা-দুবেলা খাওয়া যায়। কিন্তু প্রতি বেলায়... ইয়াক!’

হিরু মুচকি হেসে বলল, ‘ও নিয়ে তোমাকে টেনশন করতে হবে না। আমি ব্যবস্থা করছি।’

হিরুর বাবা ফের শঙ্কিত গলায় বললেন, ‘জি-বাংলা যদি আর চালুই না হয়, তাহলে তোর মা আজীবনের জন্য রান্নাবান্না বয়কট ঘোষণা করবে নাকি!’

হিরু ফের সহাস্যে বলল, ‘এদেশে জি-বাংলা, স্টার জলসা বন্ধ হবে না। ধরো ঊর্ধ্বতন কেউ এগুলো বন্ধে জোর চেষ্টা চালালেন এবং সফলও হলেন। কিন্তু সেই সাফল্য বড়জোর একদিনের, পরদিনই আবার তাকে চালু করতে হবে।’

‘কেন রে?’

‘বারে, অফিস থেকে তাকে বাসায় ফিরতে হবে না!’

‘বাসায় ফেরার সাথে এগুলো পুনরায় চালুর কী সম্পর্ক?’

‘বাসায় গিয়েই তো তাকে তার বউয়ের পাল্লায় পড়তে হবে। বউ তখন আর স্ত্রী থাকবে না, থাকবে ইস্ত্রির মতো গরম! বউয়ের দাবির মুখে বেচারা নিজের অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য হবেই!’

‘যাক, তাহলে দুশ্চিন্তামুক্ত হলাম। কিন্তু আমাদের ঘরের এই আপদকালীন অশান্তি যে কিভাবে দূর করি...।’

‘বললামই তো, ওটা তুমি আমার ওপরে ছেড়ে দাও। এক কাজ করো, বাজার থেকে কিছু ইলিশ মাছ কেনার প্রস্তুতি নাও। এখনো বাজারে কম দামে ইলিশ মিলবে। ক’দিন পরে পহেলা বৈশাখের বাতাস লাগা মাত্রই মাছের দাম হু-হু করে চড়বে।’

হিরুর বাবা মুচকি হেসে বললেন, ‘এবার দেখছি তুই পহেলা বৈশাখে ইলিশ-পান্তা খাওয়ার জোর প্ল্যান করছিস!’

‘পহেলা বৈশাখে না বাবা। ইলিশ-পান্তা খাব কাল সকালে। মা যে ভাত রান্না করেছে, ওগুলোর একটা গতি করতে হবে না?’

‘ভালো আইডিয়া। কিন্তু ইলিশগুলো কে রাঁধবে?’

হিরু এর জবাবে কিছু না বলে কাকে জানি ফোন দিল। হিরুর পরিকল্পনামাফিক সবাই যার যার রুমে গিয়ে কানে তুলা গুঁজে বসে রইল। অল্পক্ষণের মধ্যে এক ভিখারি এল। কাউকে না দেখে হিরুর মাকেই দরজা খুলতে হলো। ভিক্ষা নিয়ে বিদায় হবার সময় ভিখারি বলল, ‘কাল সকালবেলায় পাঁচজন ক্ষুধার্তকে ইলিশ-পান্তা খাওয়ালে জি-বাংলা চ্যানেল চালু হয়ে যাবে!’

কথাটা শুনে হিরুর মা চমকে উঠলেন। ঘাড় ফিরিয়ে পিছু তাকিয়ে দেখেন ভিখারি হাওয়া। তত্ক্ষণাত্ স্বামীর কাছে গিয়ে বললেন, ‘ইয়ে মানে... বাজার থেকে কিছু ইলিশ কিনে আনো না!’

 

পরদিন সকালবেলা। হিরুর মা ভিখারিদের অপেক্ষায় ইলিশ-পান্তা রেঁধে বসে আছেন। কিন্তু কারোর টিকিটিরও দেখা নেই। ক্ষুধায় যখন পেটের সঙ্গে পিঠ লেগে যাওয়ার দশা হলো, তখন হিরু মুখ খুলল, ‘মা, তোমার ওই ভিখারি আসবে না। ঘরে অলরেডি আমরা পাঁচ-পাঁচজন ক্ষুধার্ত লোক রয়েছি। আমাদেরকেই পরিবেশন করো না।’

হিরুর কথা শুনে তার মা অগ্নিশর্মা। তার বুঝতে বাকি রইল না—গতকালকের ভিখারিটি হিরুরই নাটক বৈকি! হিরুকে যখন তিনি ঝাটার বাড়ি মারার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই টিভি রুম থেকে হিরুর ছোটবোনটি চিক্কুর দিয়ে উঠল, ‘জি-বাংলা চালু হয়েছে মা, জলদি এসো!’ অমনি পড়িমরি করে টিভিরুমের দিকে ছুটলেন তিনি। ভেবে কূল পেলেন না তিনি, ‘ভিখারিটির কথা এভাবে অক্ষরে অক্ষরে কিভাবে ফলল!’

অন্যদিকে, বাসার বাকি পাঁচ সদস্য তখন মনের আনন্দে গলা পর্যন্ত ইলিশ-পান্তা খেলো। খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে হিরু তাদের মোটিভেশনাল স্পিচ দিচ্ছিল, ‘সবাই মনে করো আজই পহেলা বৈশাখ। আমরা বৈশাখের সকালে পান্তা-ইলিশ খাচ্ছি!’

 

দুই

অবশেষে ‘এসো হে বৈশাখ’ গানটি শুনে পহেলা বৈশাখ দিনটির আগমন ঘটল। হিরু সকালে গেল এক বন্ধুর বাসায়। তাকে নিয়ে বাইরে ঘুরতে যাবে সে। গিয়ে দেখে—বন্ধুটি কাঁথার তলে মুখ লুকিয়ে পড়ে আছে!

‘কীরে, বের হবি না?’

‘না রে, আজ বের হলে বিরাট রিস্কে পড়ে যাব।’

‘কিভাবে?’

‘প্রতিবারে পহেলা বৈশাখের আগে আগে আমার পাওনাদাররা হালখাতার কার্ড দিয়ে যায়। আমিও মনের সুখে তাদের দোকানে গিয়ে মিষ্টি-টিষ্টি খেয়ে আসি। কিন্তু এবার সেই সুযোগ নাই রে। দোকানে গেলে এবার আর বাকি পরিশোধ না করে উপায় থাকবে না!’

‘তোর কথার আগা-মাথা কিছুই বুঝতে পারছি না।’ হিরুকে কিছুটা দ্বিধান্বিত মনে হলো।

বন্ধুটি বিষয়টা খুলে বলল, ‘আগে প্রতিবার বৈশাখের প্রথমদিন সকালে মুখোশ পরে বের হতাম। কেউ চিনতে পারত না। কিন্তু এবার তো মুখোশ পরতে মানা।’

‘ওওও এই ব্যাপার। তাহলে আর কী করার... তোর কিসমত খারাপ!’

‘ব্যাপারটা কী বল তো!’

‘আমার কাছে তোর একটা ট্রিট পাওনা। আমি ওটা আজ তোকে দেব বলে বেরিয়েছিলাম। কিন্তু তুই তো বেরই হতে পারবি না! ট্রিটও শেষ!’

‘এমনটা করতে পারবি তুই! যতই রিস্ক হোক না কেন, আমি তাহলে আজকেই ট্রিটটা নেব। তোকে ছাড় দেওয়া যাবে না!’

বন্ধুটি হিরুর সঙ্গে ঘরের বাইরে বেরিয়ে এল। কিছুদূর এগোনোর পর হিরু বলল, ‘তোর কাছে তো তোতা চাকলাদারের বেশকিছু টাকা পাওনা আছে। যা, গিয়ে দিয়ে আয়। চালকাদার তোকে ডাকছে ওই!’

বন্ধুটি মাইনকার চিপায় পড়ে কোনোমতে বলল, ‘চাকলাদার তোকে কমিশন দেবে বুঝি?’

হিরু হেসে বলল, ‘সেই কমিশনের টাকা দিয়েই তো আজ তোকে ট্রিট দেব!’

বন্ধুটি চাকলাদারের সামনে পড়ায় বাকি পরিশোধ না করে পারল না। ফিরে এসে হিরুকে ধরল, ‘বেশ, এবার তোর ট্রিট... বেশি ভাঙব না তোকে, গরিবের ইলিশ-পান্তাই খাওয়া!’

‘আজকে কি আর ইলিশ-পান্তা গরিবের আছে!’ হিরু স্বগতোক্তি করল। শেষে বন্ধুটিকে বলল, ‘আমার কোনো ট্রিট গরিবি হয় না। তোকে আজ চাইনিজ খাওয়াব!’

‘পহেলা বৈশাখের দিনে চাইনিজ!’ বন্ধুটি বাকরুদ্ধপ্রায়।

হিরু মুচকি হেসে বলল, ‘অন্যান্য দিন হলে চাইনিজমুখো হওয়ার নামই করতাম না। কিন্তু আজ সকল চাইনিজওয়ালা মাছি মারছে। সস্তাতেই খেতে পারব! বেশি কথা না বলে চল এখন!’

বন্ধুটি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে সটান সেখানেই দাঁড়িয়ে রইল!

 

তিন

পহেলা বৈশাখ হলেও এলাকায় নির্বাচনী আমেজ বর্তমান। দুদিন পরেই নির্বাচন। প্রার্থীরা প্রচারণার দিক থেকে একজন আরেকজনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে যেন। কিন্তু জনপ্রিয়তায় মাঝারি গোছের আর ভালো মানুষ হলেও হিরুর জ্ঞাতি চাচা ফেলু মিয়া অর্থনৈতিক দিক থেকে বেশ পিছিয়ে আছেন। একদিন তিনি এক দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে হিরুকে বললেন, ‘জনগণের সেবা করার ইচ্ছেটা বোধ হয় আর হবে না রে!’

তা শুনে হিরু বলল, ‘জনগণের সেবা করার জন্য নির্বাচনে দাঁড়ানো লাগে না। নির্বাচিতও হওয়া লাগে না।’

‘সে তো জানি রে, ভাস্তে। সাধ্যের মধ্যে মানুষের পাশে সর্বোতভাবে থাকবার চেষ্টা করে যাচ্ছি। লোকজনই তো আমাকে দাঁড় করিয়ে দিল এবার। এখন নির্বাচিত হওয়া বাদ দিলাম, জামানতও যদি হারিয়ে বসি...। তখন তোর চাচিই আমার মুখে চুনকালি মেখে দেবে।’

এই কথার প্রত্যুত্তরে হিরু মুখে আর কিছু বলল না। মনে মনে বলল, ‘ফেলু চাচা ফেল করলেই বা কী! নতুন কোনো নাম তো আর যুক্ত হচ্ছে না! শতবার ফেল করলেও শেষমেশ সেই আকিকা দেওয়া নামটাই থেকে যাবে যে!’

পহেলা বৈশাখের দিন সকালে ফেলু কাকা হিরুকে চেপে ধরলেন, ‘আর পারছি নারে ভাস্তে! তুই একটা কিছু কর।’

‘কী হয়েছে?’

‘পহেলা বৈশাখে প্রার্থীরা একেকজন কী করেছে জানিস? একজন বৈশাখ আসার আগেই দিয়েছে বৈশাখী পাঞ্জাবি-শাড়ি। আরেকজন দিয়েছে নববর্ষের শুভেচ্ছা কার্ড। কিন্তু যার সাথে আমার জোর প্রতিদ্বন্দ্বী হবে—সে আজ সবাইকে ইলিশ-পান্তা খাওয়াচ্ছে। ইলিশ খেয়ে দুদিন পরের ইলেকশনে তো তাকেই ভোট দিতে যাবে রে!’

‘তাকে ভোট দিতে যেতে পারবে না।’

‘কী বলছিস ভাস্তে?’

‘সারাবছর পাবলিক যা খায়! একদিন সক্কাল সক্কাল পান্তা খেয়ে নির্ঘাত্ সবার পেট খারাপ করবে। ভোটকেন্দ্রে যাওয়া তো দূরের কথা, বেরই হতে পারবে না।’

‘সে নাহয় বুঝলাম। ওদিকে আজই প্রচারণার শেষ দিন। এখন আমার করণীয় কী?’

‘স্যালাইন বিতরণ।’

‘মানে?’

‘কাকু, তুমি জলদি বাজার থেকে কয়েক কার্টন স্যালাইন কিনে আনো। একটু পরে তোমার লোক দিয়ে ঘরে ঘরে স্যালাইন পাঠাবে। পাঞ্জাবি-শাড়ি পাক আর পান্তা খাক, পাবলিক কঠিন বিপদে (স্যালাইন দিয়ে) পাশে দাঁড়ানেওয়ালাকেই ভোট দেবে, নিশ্চিত!’   g