নগরবাড়ি ও বাঘাবাড়ি বন্দরে খোলা আকাশের নিচে বিসিআইসি’র সার

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৭, ০৩:৫৪

বিসিআইসি’র হাজার হাজার টন রাসায়নিক সার নগরবাড়ি ও বাঘাবাড়ি নৌবন্দর এলাকায় আকাশের নিচে রাখা হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ে বিদেশ থেকে আমদানি করা সারের বেশির ভাগ মাসের পর মাস আকাশের নিচে পড়ে থাকায় বৃষ্টিতে ভিজে রোদে শুকিয়ে শক্ত জমাট বেঁধে গেছে। এলাকায় বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে সারের তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ।

বাঘাবাড়ি-নগরবাড়ি নৌবন্দর এলাকা সরেজমিন ঘুরে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বিসিআইসি আমদানিকারকদের মাধ্যমে চীন, মিসর, সৌদি আরব, তিউনিশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি ও টিএসপি সার আমদানি করে। পরে বিভিন্ন ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির মাধ্যমে ওই সার সড়ক পথে সার মজুদের জন্য উত্তরাঞ্চলের ১৪টি বাফার গুদামে পৌঁছে দেওয়া হয়। এদিকে গত বছরের সারে বাফার গুদামগুলো ভরা রয়েছে। এখন বাফার গুদামগুলোতে জায়গা না থাকায় বাঘাবাড়ির বড়াল নদের উত্তর পাড় এবং নগরবাড়িতে যমুনা নদীর পশ্চিম পাড় এবং নতুন বাস টার্মিনাল এলাকায় সারের বস্তা স্তূপ করে রাখা হয়েছে। বৃষ্টিতে ভিজে রোদে শুকিয়ে শক্ত জমাট বাঁধা সারের গুণগতমান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে আসন্ন রবি ও বোরো আবাদে এই সার প্রয়োগ করে ভালো ফলন পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে কৃষকরা সংশয়ে রয়েছেন।

বিসিআইসির বগুড়া আঞ্চলিক অফিসের এক কর্মকর্তা  বলেন, উত্তরাঞ্চলের ১৪টি বাফার গুদামে এ বছর প্রায় তিন লাখ টন সার মজুদ আছে। আসন্ন রবি ও বোরো আবাদ মৌসুমে সারের চাহিদা ধরা হয়েছে তিন লাখ ৮৩ হাজার টন। ফলে সার সংকটের কোনো সম্ভাবনা নেই। জমাট বাঁধা সারের নমুনা ঢাকার পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে গুণগত মান ঠিক আছে কি না নিশ্চিত হয়েই তা রিপ্যাকিং করে বাফার গুদাম এবং ডিলারদের সরবরাহ করা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/নূহু