শেরপুরে চেতনানাশক খাইয়ে লুটপাট, এক শিশুর মৃত্যু

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৭, ১৫:১২
 
নালিতাবাড়ী পৌরশহরের উত্তর গড়কান্দা মহল্লায় তিন পরিবারের সবাইকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে লুটপাট করে সব নিয়ে গেছে এক অজ্ঞাত দম্পতি। পায়েশের সঙ্গে বিষাক্ত চেতনানাশক খাওয়ানোর ফলে নামিয়া নামে আড়াই মাসে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। 
 
আজ মঙ্গলবার সকালে ওই তিন পরিবারের ১১ সদস্যকে নালিতাবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মৃত শিশুর মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। 
 
বিষক্রিয়ায় আশংকাজনক দম্পিত এনামূল হক (২৮) ও তার স্ত্রী রিনা খাতুনকে (২৬) শেরপুর সদর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 
 
পুলিশ ও আহত আবুল হাশেম জানান, সোমবার বিকালে মূখে পরিচিত সীমান্তবর্তী মন্ডলিয়াপাড়া গ্রামের এক লোক আবুল হাশেমকে মোবাইল ফোনে করে জানান তার বাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে আসছেন এবং তারা রাতে থাকবেন। আবুল হাশেম একজন ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক। ওই অজ্ঞাত লোক কয়েক দিন আবুল হাশেমের মোটরসাইকেলে যাওয়া-আসা করেছে। মুখ পরিচিত লোকের জন্য বাজার করে আবুল হাশেম অপেক্ষা করেন। অজ্ঞাত লোকটি স্ত্রীসহ সন্ধ্যায় ছানার পায়েশ নিয়ে হাশেমের বাড়িতে উপস্থিত হন। 
 
রাতের খাবার খেয়ে প্রতারক লোকটি আবুল হাশেম তার মা এবং এনামূল হক এই তিন পরিবারের সব সদস্যকে নিজ হাতে ছানার পায়েশ খাওয়ান। একপর্যায়ে হাশেমের বড় ছেলে আব্দুল্লাহ এবং তার স্ত্রী জেসমিন তাদের আড়াই মাসের প্রথম সন্তান নামিয়াকে ছানার খাওয়াতে বাধা দেন। প্রতারক ওই লোকটি বলে ছানার পায়েশের একটু ঝুল খাওয়ালে কিছু হবে না। এই বলে শিশুটিকেও খাওয়ায়। এতে সবাই অচেতন হয়ে পড়েন। 
 
আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে পাশের বাড়ির ইব্রাহীমের ছেলে আবুল হাশেমের ছোট ছেলে আশিককে মাদরাসায় যাওয়ার জন্য ডাকতে গিয়ে দেখে সবাই ঘুমিয়ে। এরপর বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। এদের ভর্তি করা হয় নালিতাবাড়ী হাসপাতালে। চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।  
 
নালিতাবাড়ী থানার ওসি ফসিহুর রহমান জানান, অসচেতনতার জন্যই এমন ঘটনা ঘটেছে। এব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে। অজ্ঞাত লোকটির কিছু নমুনা আমরা পেয়েছি। অচিরেই তারে গ্রেফতার করতে পারবো আশা করছি।   
 
ইত্তেফাক/কেকে