জো ক স

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৯, ২১:২৫

সত্যজিত্ বিশ্বাস

নববর্ষের উপহার

 

প্রেমিক :সামনে তো নববর্ষ। কী উপহার চাও, বলো?

প্রেমিকা :একটা জামদানি শাড়ি কিনে দাও না গো, যেটা পরে তোমার সাথে নববর্ষের দিন ঘুরব।

প্রেমিক :ইয়ে মানে তুমি তো জানোই আমার মানিব্যাগের অবস্থা।

প্রেমিকা :তাহলে একটা সালোয়ার-কামিজ কিনে দাও, ওটা পরে নববর্ষের দিন তোমার সাথে ঘুরব।

প্রেমিক :ইয়ে মানে তুমি তো জানোই আমার মানিব্যাগের...

প্রেমিকা :তাহলে অন্তত এক জোড়া জুতা কিনে দাও, যেটা পরে নববর্ষের দিন তোমার সাথে ঘুরব।

প্রেমিক :ইয়ে মানে তুমি তো জানোই...  

প্রেমিকা :তাহলে এক কাজ করো, নববর্ষে তোমার গাড়িওয়ালা বন্ধু সুমনের মোবাইল নম্বরটা গিফট করো। 

প্রেমিক :কেন? সুমনের নম্বর কেন?

প্রেমিকা :না মানে আমি তো জানিই তোমার মানিব্যাগের অবস্থা, তাই।  

বৈশাখী ইলিশ

বিক্রেতা :লইয়া যান স্যার, লইয়া যান। বৈশাখী ইলিশ লইয়া যান। 

ক্রেতা (মাছ টিপেটুপে দেখে) :তোমার বৈশাখী ইলিশ এত নরম কেন? 

বিক্রেতা :আর কইয়েন না, স্যার। আমার মাছ সুন্দর বইলা যে প্রেসারটা যাইতেছে সকাল থেইক্যা।  

ক্রেতা :সে কেমন?

বিক্রেতা :যেই দেখে, লোভে পইড়া আইসা একটা টিপা মারে। এরপরেও যে টিইক্কা আছে, এইডাই তো বেশি। ঠিক কি না, কন?  

প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা

 

পুলিশ সার্জেন্ট :ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে কেউ ডাবল ডেকার বাস আনে?

বাস ড্রাইভার :কেউ আনে না বলেই তো আমি আনলাম। 

পুলিশ সার্জেন্ট :কেন আনলে শুনি?    

বাস ড্রাইভার :একটা প্রাকটিক্যাল পরীক্ষা করে দেখার করার জন্য। 

পুলিশ সার্জেন্ট :কী পরীক্ষা?

বাস ড্রাইভার :উচ্চতার মাপটা ঠিক আছে কি না সেই পরীক্ষার জন্য।  

পুলিশ সার্জেন্ট :কার উচ্চতা? ফ্লাইওভারের নাকি ডাবল ডেকারের?

বাস ড্রাইভার :স্যার, দুটোরই।   

 

 

পহেলা বৈশাখের তাজা খবর

দশ কি বারো বছরের এক ছেলে দৌড়ে দৌড়ে খবরের কাগজ বিক্রি করছে—পহেলা বৈশাখের সবচেয়ে তাজা খবর, অবাক খবর, এক বাচ্চা ছেলের হাতে ৮৬ জন কুপোকাত। 

এক পথচারী তাড়াতাড়ি একটি পত্রিকা কিনে পত্রিকার হেড লাইনগুলোর দিকে তাকাতেই ছেলেটি আবার চিত্কার করে দৌড়াতে শুরু করল, পহেলা বৈশাখের সবচেয়ে তাজা খবর নিন, এক বাচ্চা ছেলের কাছে ৮৭ জন কুপোকাত।

 

এক বৈশাখে

প্রেমিক :তোমার চিরল চিরল দাঁতের হাসিতে যেন সোনা ঝিকমিক করে।

প্রেমিকা :বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে এমন কথা আমাকে বলতে পারলে? আমার দাঁত এত হলুদ?

প্রেমিক :আরে আমি বলতে চাইলাম কী, আর বুঝলা কী? 

প্রেমিকা :বুঝব কী আবার? যা বুঝাতে চেয়েছ তা-ই বুঝেছি। জীবনে আমার সাথে কথা বলবা না। রিলেশন আজ থেকে প্যাক আপ।

 

নিলেই যদি আবার ফিরিয়ে দিলে কেন?

নববর্ষের দিন সকালে বউকে নিয়ে বের হয়েছে স্বামী। ঘুরতে ঘুরতে রমনা পার্কে গিয়ে প্রচণ্ড ভিড়ে স্বামীটি হারিয়ে ফেলল বউকে। এদিক ওদিক খুঁজে বউকে না পেয়ে চিত্কার করে দু হাত তুলে স্বামীটি বলল, হে সৃষ্টিকর্তা, বছরের প্রথম দিনে নাকি তোমার কাছে যা চাওয়া যায়, তাই পাওয়া যায়। আমার বউটাকে তুমি ফিরিয়ে দাও। আশপাশ দিয়ে যারা যাচ্ছিল, এই আকুতি শুনে থমকে দাঁড়াল সবাই।   

ঠিক তখন এক নারীকে চিত্কার করতে করতে ওই লোকটির দিকে এগিয়ে আসতে দেখা গেল। সবাই হাততালি দিয়ে স্বাগত জানালে স্বামী আবার দু হাত তুলে বিড়বিড় করে বলতে লাগল, নিলেই যদি আবার ফিরিয়ে দিলে কেন? 

 

কালবৈশাখী শুভেচ্ছা

প্রথম বন্ধু :কীরে দোস্ত, পহেলা বৈশাখে তোর পাঞ্জাবি ছেঁড়া কেন? আর চোখের নিচে কালো দাগ, কপালে সুপারি উঠালো কে?

দ্বিতীয় বন্ধু :আর বলিস না, এক সুন্দরীর পেছন পেছন গিয়েছিলাম রমনা পার্কে। 

প্রথম বন্ধু :তারপর?

দ্বিতীয় বন্ধু :ওখানেই বৈশাখী শুভেচ্ছা দিল।

প্রথম বন্ধু :তাই বলে এভাবে?

দ্বিতীয় বন্ধু :হুম, মেয়েটার সাথে যে গ্রুপ ছিল খেয়াল করিনি। সবাই মিলে একেবারে কালবৈশাখী শুভেচ্ছা দিয়ে দিল।

 

 

ড্রেস কোড

ছেলেটি :ড্রেসআপ সম্পর্কে তুমি খুব সচেতন, তাই না?

মেয়েটি :খুবই। যখন যে অকেশনে যাই সেই অকেশনের সাথে খাপ খাইয়ে জামাকাপড় পরি। এই যেমন ধরো, আমি যখন কোনো বিয়ে বাড়িতে যাই, তখন ভারী কাজ করা, ঝলমলে বিয়ের শাড়ি পরি। যখন ডিনার পার্টিতে যাই, তখন জমকালো ডিনারের পার্টি ড্রেস পরি।   

ছেলেটি :সামনে তো পহেলা বৈশাখ আসছে তখনো কী ম্যাচ করেই পরবে?

মেয়েটি :অবশ্যই।

ছেলেটি : তাহলে কী পহেলা বৈশাখে এবার ঘর থেকে বের হবে না?   

মেয়েটি :বের হবো না কেন?

ছেলেটি :না মানে পহেলা বৈশাখ মানে তো বছরের জন্মদিন, তাই না?

মেয়েটি :হুম, তাতে কী?

ছেলেটি :না মানে সেদিনও যদি জন্মদিনের ড্রেস কোড মেনটেইন করো, বের হবে কী করে?

 

উড়তে গিয়ে আটকে গেছে

পুলিশ সার্জেন্ট :কী ব্যাপার, কী হয়েছে এখানে?

বাস ড্রাইভার :না স্যার তেমন কিছু না।

পুলিশ সার্জেন্ট :তেমন কিছু না মানে? ডাবল ডেকার বাড়ি খেয়ে ফ্লাইওভারে আটকে আছে, আর তুমি বলছ তেমন কিছু না?

বাস ড্রাইভার :আসলেই তেমন কিছু না, স্যার। বাসটা উড়তে গিয়ে আটকে গেছে।

 

মাপে কম দিল কেন?

হেলপার :ওস্তাদ বাসের চান্দিনা তো ফ্লাইওভারের লগে বাইজ্জা আছে, এখন আমরা কী করুম?

বাস ড্রাইভার :সবার আগে দোয়া পড়ুম প্রাণে বাঁচার লাইগা।

হেলপার :হেরপর?

বাস ড্রাইভার :হেরপর উড়াল সেতু যে বানাইছে হেই হালারে কইসা গালি দিমু।

হেলপার :কেন ওস্তাদ?

বাস ড্রাইভার :হালায় মাপে কম দিল কেন? ডাবল ডেকারের মাপ ঠিকমতো লইলে কী আইজ এই অবস্থা হইত?

 

একটা মানুষের জীবন তো বাঁচব

বাস ড্রাইভার :ওরে, তাড়াতাড়ি সিটে আইসা স্টিয়ারিংটা ধর তো।

কন্ডাকটর :কেন ওস্তাদ, কী হইছে?

বাস ড্রাইভার :একটা রাস্তা উপর থেইকা সোজা আমাগো দিকে নাইম্যা আইতাছে।

কন্ডাকটর :আমার আইলে কী হইব?

বাস ড্রাইভার (জানালা দিয়ে লাফ দিতে দিতে) :একটা মানুষের জীবন তো বাঁচব।

 

কে বড় ওস্তাদ

স্যার :বল তো হাতি আর মাছির মধ্যে পার্থক্য কোথায়?

ছাত্র :পার্থক্য ওস্তাদিতে।

স্যার :ওস্তাদিতে মানে?

ছাত্র :মাছি, হাতির গায়ে যেকোনো সময় ইচ্ছে হলেই বসতে পারে। আর হাতি হাজার ইচ্ছে করলেও মাছির গায়ে গিয়ে বসতে পারবে না।

 

অক্ষরে অক্ষরে ফলে গেল তো

বিল্টু :জ্যোতিষ বাবা, আমার হাতটা ভালো করে দেখে দেবেন? কাল থেকে আমার এইচএসসি পরীক্ষা শুরু।

জ্যোতিষ বাবা :তোর হাতের রেখা বলছে, তুই বাকি সবার থেকে আলাদা। একদম চিন্তা করিস না। নিশ্চিন্ত মনে পরীক্ষা দে, তুই সবার আগে থাকবি।  

বিল্টু (পরের দিন পরীক্ষা দিয়ে) :ধুর মিয়া, দেন, আমার টাকা ফেরত দেন। 

জ্যোতিষ বাবা :কেন, কী হয়েছে বাবা?

বিল্টু :আপনার কথায় নিশ্চিন্ত মনে পরীক্ষার হলে গিয়ে দেখি আমার সিট পড়েছে ফার্স্ট বেঞ্চে। একবার ঘাড়টা পর্যন্ত ঘুরাতে পারিনি। আবার জিজ্ঞাসা করেন কী হয়েছে? 

জ্যোতিষ বাবা :কেন, তোকে কী বলিনি—একদম চিন্তা করিস না। নিশ্চিন্ত মনে পরীক্ষা দে, তুই সবার আগে থাকবি। আমার কথাই ফলল কি না বল?