ঢাকার পান্থপথে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও সোয়াট সদস্যদের গুলিতে জঙ্গি সন্দেহে নিহত যুবক সাইফুল ইসলামের (২৪) খুলনার বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে জঙ্গিদের ব্যবহৃত বই উদ্ধার করেছে। মঙ্গলবার দুপুর পৌঁনে একটার দিকে তার বাবাকে নিয়ে ডুমুরিয়া থানা পুলিশ এ অভিযান চালায়।
ডুমুরিয়া থানার ওসি মো. হাবিল হোসেন জানান, সাইফুল ইসলামের বাবা আবুল খায়ের মোল্লাকে প্রথমে থানায় ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার ছেলে সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা হয়। পরে সাহস ইউনিয়নের নোয়াকাঠি গ্রামে তার বাড়িতে তল্লাশি করা হয়। এ সময় তার বাড়ি থেকে পুলিশ মাওলানা আবুল আলা মওদুদীর লিখিত 'তাফহীমুল কোরআন' সহ বেশ কিছু ইসলামি বই উদ্ধার করা হয়। জঙ্গিদের কাছে এ সকল বই সরবরাহ করা হয় বলে পুলিশ দাবি করেছে।
ওসি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিহত সাইফুল ইসলামের পিতা আবুল খায়ের মোল্লা স্বীকার করেছেন তিনি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আবুল খায়ের নোয়াকাঠি মাঠেরহাট মসজিদের ইমাম ও স্থানীয় সাহস ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে পুলিশ সাইফুল ইসলামের সম্পর্কে জানতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার দু'বন্ধু ঘোষগাতী গ্রামের সানি ও নোয়াকাঠি গ্রামের ঈষাণকে থানায় নিয়ে গেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
সাইফুলের পিতার উদ্ধৃতি দিয়ে ওসি জানান, সাইফুল ইসলাম খুলনার নেভি কলোনিতে থেকে সরকারি বিএল কলেজের পড়াশোনা করতো। প্রতি সপ্তাহে সে নোয়াকাঠির বাড়িতে আসত। গত ৭ আগস্ট চাকরির কথা বলে সে খুলনা থেকে ঢাকায় যায়। ঢাকায় যাওয়ার আগে সে নোয়াকাঠির বাড়ি ঘুরে গিয়েছিল। ঢাকায় যাওয়ার পর সর্বশেষ গত রবিবার সাইফুল বাড়িতে যোগাযোগ করেছিল। সে সময় জানিয়েছিল সে সোমবার বাড়িতে আসছে। কিন্তু সোমবার বাড়িতে আসেনি। মঙ্গলবার তার আত্মঘাতীর সংবাদ পাওয়া যায়।
নোয়াকাঠি গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, আবুল খায়ের তার প্রতিবেশী। জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে নোয়াকাঠি মোল্লাপাড়া জামে মসজিদের ইমামের পদ থেকে তাকে চাকরীচ্যুত করা হয়েছিল। এরপর খয়ের মাঠেরহাট জামে মসজিদে ইমামতি করেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, সাইফুল ইসলাম ডুমুরিয়া উপজেলার উলা মজিদিয়া আলিয়া মাদ্রাসা থেকে দাখিল এবং খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে আলিম পাস করেন। বর্তমানে তিনি খুলনা সরকারি বিএল কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স শেষ বর্ষে অধ্যয়নরত ছিলেন। দু'বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। বড় বোনের নাম সাবিহা খাতুন ইরানি এবং ছোট বোন তামান্না খাতুন। তার মা আসমা খাতুন বাক প্রতিবন্ধী।
সাইফুলের বোন সাবিয়া খাতুন ইরানী জানান, 'তার ভাই সাইফুল খুলনার সরকারি বিএল কলেজে পড়াকালীন একটি মেসে থাকতো এবং মাঝে মধ্যে বাড়ি আসতো। তবে সে কারো সাথে মিশত না। তার ভাই সাইফুল গত ৪ আগস্ট শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করে চাকরি খোঁজার কথা বলে বাড়ি থেকে চলে যায়। তবে এলাকায় সে কোন রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল না।'
সাইফুলের বাবার উদ্ধৃতি দিয়ে ওসি হাবিল হোসেন জানান, সাইফুল ইসলাম খুলনার নেভি কলোনিতে থেকে সরকারি বিএল কলেজে পড়াশোনা করতো। প্রতি সপ্তাহে সে নোয়াকাঠি গ্রামের বাড়িতে আসত। গত ৭ আগস্ট চাকরির কথা বলে সে খুলনা থেকে ঢাকায় যায়। যাওয়ার আগে সে নোয়াকাঠির বাড়ি ঘুরে গিয়েছিল। ঢাকায় যাওয়ার পর সর্বশেষ গত রবিবার সাইফুল বাড়িতে যোগাযোগ করেছিল। সে সময় জানিয়েছিল সে সোমবার বাড়িতে আসছে। কিন্তু সোমবার বাড়িতে আসেনি। মঙ্গলবার তার আত্মঘাতীর সংবাদ পাওয়া যায়।
খুলনার পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্যা বলেন, জঙ্গি সাইফুলের ব্যাপারে বিস্তারিত খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। তার গ্রামের বাড়িতে পুলিশের অভিযান চলছে। তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পর আপনাদের জানানো হবে।
উল্লেখ্য, সাইফুল ইসলাম মঙ্গলবার সকালে ঢাকার পান্থপথের ওলিও ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি হোটেলে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও সোয়াট সদস্যদের অভিযানে নিহত হন।
ইত্তেফাক/জামান
