পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত তিস্তামুখ ঘাট পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার একশত সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি গাইবান্ধা শহর পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৭ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বন্যায় পানিবন্দী হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান জানান, জেলার প্রায় ৭৮ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের মধ্যে ফুলছড়ির সিংড়িয়া এলাকায় ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ১০টি পয়েন্টে লিকেজ দেখা দেয়। বালির বস্তা এবং বাঁশের পাইলিং করে ওই স্থানগুলো রক্ষা করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঠিকাদারের শ্রমিকরা ছাড়াও রংপুর-৬৬ ডিভিশনের সেনা বাহিনীর ৮৫ জনের একটি টিম ওইসব স্থানগুলোতে কাজ করছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার ৩৮টি ইউনিয়নের প্রায় আড়াই লাখ মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। ওইসব ইউনিয়নের ঘরবাড়ি ডুবেছে ৩২ হাজার ৫৫টি। ইতোমধ্যে আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে ৬৯টি। এইসব আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ৬ হাজার জন মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করেছে। এছাড়া বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ ও ধ্বসের আশঙ্কা থাকায় বাঁধ সংলগ্ন লোকজনকে তাদের সম্পদ নিয়ে নিরাপদ আশ্রয় চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল জানান, এবারের বন্যা কবলিত মানুষদের জন্য এ পর্যন্ত একশ' মেট্রিক টন চাল ও নগদ পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ৮০ মেট্রিক টন চাল ও আড়াই লাখ টাকা উপদ্রুত এলাকায় বিতরণ করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/জামান
