জামালপুরের মেলান্দহে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। মেলান্দহের দুরমুঠ রেললাইনের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে। মেলান্দহের তারাকান্দি থেকে ইসলামপুর পর্যন্ত কয়েক স্থানে রেললাইনের ২/৩ ফুট উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া বন্যায় এক কলেজ ছাত্রের মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্টেশন মাস্টার জিয়াউল হক জানান-দ্রুত ট্রেন চলাচলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের একটি দল মনিটরিং করছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্যার্তরা দুরমুঠ রেলস্টেশনের প্লাটফরমসহ মালবাহী খালি বগিতে আশ্রয় নিয়েছেন। এ ছাড়াও যার যার মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-রাস্তা এবং উঁচুস্থানে গবাদি পশু নিয়ে মানুষকে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। এরা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। উপজেলার মসজিদ-মাদ্রাসাসহ কমপক্ষে অর্ধ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করায় স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বন্যার্তদের নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি আসন্ন কুরবানি ঈদের পশু রক্ষার্থে জলদস্যুদের উৎপাত বন্ধে পুলিশী টহল ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের প্রয়োজন বলে বন্যার্তরা দাবী জানিয়েছেন।
ওদিকে টনকি গ্রামের কলেজছাত্র কমল (১৭) পানিতে পড়ে মারা গেছে। মঙ্গলবার ৩টার দিকে বন্যার পানি দেখতে চারবন্ধু পচাবহেলায় যায়। বন্ধুদের সাথেই পানিতে ডুব দিলে কমলকে খরস্রোতে ভাসিয়ে নেয়। খোঁজাখুঁজির এক ঘণ্টা পর তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। টনকি গ্রামের পাগুর ছেলে কমল ইসলামপুর ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র বলে জানাগেছে।
এ ছাড়াও উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি আছে। বিশুদ্ধ খাবার পানি ও গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। কমপক্ষে দু'শতাধিক পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। উপজেলা সদরের সাথে মাহমুদপুর, হাজরাবাড়ি, মাদারগঞ্জের সাথে মহিষবাথান, পচাবহেলা, রোকনাই সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যেই ২টি পৌরসভায় পানি প্রবেশ করেছে। কোথাও ত্রাণ তৎপরতার খবর পাওয়া যায়নি।
ইত্তেফাক/জামান
