চাল কম মানুষ বেশি

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৭, ০১:৪৩

খালিয়াজুরীতে এবারের অকাল বন্যায় হাজার হাজার কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভাতের কষ্টে ভোগলেও তাদের পুনর্বাসনে ‘ওএমএস’ (ওপেন মার্কেট সেল)’র চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে নামেমাত্র।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার হাওরদ্বীপ খালিয়াজুরীর একমাত্র বোরো ফসলের শতভাগই এবারের চৈত্রের বাঁধ ভাঙা ঢলের পানিতে তলিয়ে ২৪ হাজার একশ ৫০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের পুনর্বাসনে সরকার গত ১৭ এপ্রিল থেকে সাতজন ডিলারের মাধ্যমে প্রতিদিন সাত মেট্রিক টন চাল খোলা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে শনিবার ছাড়া প্রতিদিন ১৫ টাকা কেজি দরে চাল কেনার সুযোগ পাচ্ছে এক হাজার চারশ পরিবার।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সামছুজ্জামান তালুকদার সুয়েব সিদ্দিকী জানান, উপজেলায় ২৪ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে স্বল্পমূল্যের ওএমএস’র চাল কেনার সুবিধা পায় মাত্র হাজারখানেক পরিবার। নামেমাত্র বরাদ্দ থাকায় লাইনে দাঁড়িয়েও প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চাল কিনতে না পেয়ে খালি হাতে ফেরত যায়। এতে দূরের গ্রাম থেকে যাতায়াত ভাড়া আর সময় ব্যয় করে আসা লোকজন সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ে। তাই ওএমএস’র চালের বরাদ্দ বাড়ানো উচিত।

খালিয়াজুরী সদর ইউনিয়নের পুরানহাটি গ্রামের বাসিন্দা রানু আক্তার রান্না ও জামসু আক্তার ওএমএস’র চাল কিনতে এসে না পেয়ে সোমবার আক্ষেপ করে বলেন, দুইদিন আইয়া লাইনে কাড়ইছি। একদিনও চাউল পাইছি না। চাউল কম আর মানুষ বেশি থাহনে আমরা অনেক মানুষ চাউল না পাইয়া ফিরা আইচি। চাউল না পাইলে ভাতের কষ্ট কেমনে যাইবো।

একই গ্রামের বয়োবৃদ্ধ কাচাই মিয়া জানান, এই চাউল কিনার লাইগ্যা সহাল তাইক্ক্যা লাম্বা লাইনে কারনি লাগে। এইহানে শ শ মানইষের মইধ্যে বেশির ভাগই চাউল কিনার সুযোগ পায় না।

খালিয়াজুরী সদরের ওএমএস ডিলার আরিফুল ইসলাম ফালাক জানান, চাহিদা অনুযায়ী চালের বরাদ্দ একেবারেই কম। অথচ, মানুষের চাপ বেশি। তাই প্রতিদিন নিমিষেই শেষ হয়ে যায় চাল বিক্রি। স্বল্প বরাদ্দ থাকায় সিংহ ভাগ মানুষই কম দামের এ চাল কেনার সুযোগ থেকে হয় বঞ্চিত।

খালিয়াজুরীর ইউএনও মোহাম্মদ তোফায়েল আহমেদ বলেন, খুচরা বাজারে চালের দাম বেশি। উচ্চমূল্যে চাল কিনে চাহিদা মেটাবার সাধ্য এখন এখানকার বেশির ভাগ মানুষের নেই। জনসাধারণের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে ওএমএস’র চালের বরাদ্দ বাড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু