হাটহাজারীতে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় একজন গুলিবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৪ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় ভাঙচুর করা হয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন নোমানের ব্যক্তিগত গাড়ীও। সংঘর্ষে আহতরা হলো, জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য মঞ্জুরুল আলম চৌধুরীর সমর্থক আবদুর রহিম মুন্নাস(৩৬), আবু সাঈদ(২১), সাঈদ(২২) এবং অজ্ঞাত ১জন।
সূত্র জানায়, জাতীয় শোক দিবসের দিন ১৫ই অগস্ট মঙ্গলবার বেলা ১২টায় জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুল আলম চৌধুরীর সমর্থক কলেজ ছাত্রলীগের একটি মিছিল কাচারী সড়ক অতিক্রম করারর সময় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক ইউনুচ গণি চৌধুরীর সমর্থক আবু সাঈদ ও সাঈদ হামলার শিকার হলে প্রতিবাদে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ইউনুচ গণি চৌধুরীর সমর্থকরা বাসস্টেশন জিরো পয়েন্ট সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে এবং জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য মঞ্জুরুল আলম চৌধুরীর সমর্থকদের দেওয়া শোক দিবসের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরে মঞ্জুর অনুসারীরা বাসস্টেশনে এসে বিক্ষোভ করতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা ইউনুচ গণি চৌধুরীর সমর্থক পৌরসভা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাহেদের দোকানে ভাঙচুর চালায়। একই সময় শোক দিবসের অনুষ্ঠান শেষ করে উপজেলা আওয়ামী সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন চৌধুরী নোমান তার নিজ গাড়ী নিয়ে হাটহাজারী বাসস্টেশন অতিক্রম করার সময় মঞ্জু অনুসারীদের হামলার শিকার হন। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এসময় হাটহাজারী-অক্সিজেন,খাগড়াছড়ি,রাঙ্গামাটি রোডের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন চৌধুরী নোমান বলেন, আমি উপজেলা আওয়ামীলীগের অনুষ্ঠান শেষ করে বাড়ী ফেরার সময় মঞ্জুর অনুসারীদের হামলার শিকার হই। তারা আমার গাড়ীতে ব্যাপক ভাঙচুর ও গুলি নিক্ষেপ করে। পরে আমি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করি।
মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী বলেন, নেতা ও নেত্রীর ছবি সম্বলিত ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার প্রতিবাদ করায় নোমানের অনুসারীরা আমার অনুসারীদের উপর গুলি চালায়। এতে একজন গুলিবিদ্ধ হয়।
মডেল থানার ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, আওয়ামী লীগের দুগ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ইত্তেফাক/এমআর
