সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের পাঁচিল-গোপালপুর সড়ক মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে ভেঙে গেছে। ফলে শাহজাদপুর, চৌহালি ও বেলকুচি এ তিন উপজেলার সাত ইউনিয়নের ৩০টি গ্রামের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ছাড়া কৈজুরী, জালালপুর ও খুকনি ইউনিয়নের পাঁচ হাজার বিঘা জমির বোনা আমন ধান ও শাকসবজির ক্ষেত বন্যার পানিতে ডুবে গেছে।
এলাকাবাসী জানায়, গত কয়েক দিন ধরে এলাকাবাসী ও সিরাজগঞ্জ পানিউন্নয়ন বোর্ডের লোকজন সড়কের এ অংশে বালির বস্তা ফেলে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সড়কটি বন্যার ভয়াবহ ভাঙন থেকে রক্ষা পায়নি। ফলে কৈজুরী, জালালপুর ও খুকনি ইউনিয়নের পাঁচ হাজার বিঘা জমির বোনা আমন ধান ও শাকসবজির ক্ষেত বন্যার পানিতে ডুবে গেছে।
এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলীমুন রাজীব বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনের সড়কটি মেরামতের কাজ শুরু করার কথা রয়েছে। এ সড়কটি দ্রুত মেরামত করা হলে ক্ষতির পরিমাণ কমে আসবে।
এ দিকে গত ২৪ ঘণ্টায় শাহজাদপুর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের প্রায় সব গুলো গ্রামই বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। বন্যার পানিতে কমপক্ষে দুই শতাধিক বাড়িঘর নতুন করে ডুবে গেছে। এ ছাড়া কৈজুরি, জালালপুর, সোনাতুনি ও গালা ইউনিয়নের যমুনা নদী তীরবর্তী গ্রামগুলিতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনে অন্তত দেড়শতাধিক বাড়িঘর যমুনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন কবলিত এ সব পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, গত দুই দিনে এ সব বন্যা ও ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ৩০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/জামান
