সুজানগরে ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী, সড়ক ধসের আশঙ্কা

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০১৭, ১৩:৩৬
 
পাবনার সুজানগরে পদ্মা নদীর পানি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এতে নদীর পার্শ্ববর্তী চারটি ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ফসলি জমি। পাশাপাশি বন্যার পানির তোড়ে ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে নতুন করে পাকা করা নারুহাটি-রাইপুর ডিসি সড়ক।
 
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সাতবাড়ীয়া, মানিকহাট, নাজিরগঞ্জ ও সাগরকান্দী ইউনিয়নের ৮/১০টি পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। নদীতে প্রতিদিন ৪/৫ইঞ্চ করে পানি বাড়ছে। ইতিমধ্যে পানি বৃদ্ধির ফলে সাতবাড়ীয়া ইউনিয়নের নারুহাটি, ফকিৎপুর, তারাবাড়ীয়া নতুনপাড়া, জামাইপাড়া, গুপিনপুর ও নিশ্চিন্তপুর, মানিকহাট ইউনিয়নের মাছপাড়া, রাইপুর ও মালিফা, নাজিরগঞ্জ ইউনিয়নের ইন্দ্রোজিতপুর, কামারহাট, নওগ্রাম, উদয়পুর, মহনপুর, মহব্বতপুর, হাসামপুর ও বরকাপুর এবং সাগরকান্দী ইউনিয়নের হুগলাডাঙ্গী, শ্রীপুর, গোবিন্দপুর, চরখলিলপুর, তালিমনগর ও মান্দিয়ারকান্দী এলাকার প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। 
 
IMG0
 
পানিবন্দী এ সব পরিবার দৈনন্দিন কাজ-কর্মে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। তারা সব চেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছে তাদের গৃহপালিত পশু নিয়ে। গৃহপালিত পশু রাখার অসুবিধাসহ গো-খাদ্যের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। তাছাড়া বন্যার পানিতে সাগরকান্দী ও নাজিরগঞ্জ ইউনিয়নের চরাঞ্চলের শত শত একর বোনা আমন, আউশ ও সবজি তলিয়ে গেছে। এতে এ জনপদের কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। 
 
পাশাপাশি বন্যার পানির তোড়ে নতুন করে পাকা করা নারুহাটি-রাইপুর ডিসি সড়ক ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে ভাঙ্গন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলছে। এলাকাবাসী বলছে, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে জিও ব্যাগ ফেলেও সড়কটি রক্ষা হবে না। 
 
অপরদিকে, বন্যার পানিতে সাগরকান্দী ইউনিয়নের তালিমনগর শাহমাহতাব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, তালিমনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাগরকান্দী উচ্চ বিদ্যালয় এবং নাজিরগঞ্জ ইউনিয়নের নওগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নরসিংহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মহব্বতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হয়েছে। 
 
ইত্তেফাক/কেকে