ঠাকুরগাঁওয়ে দুর্যোগ মোকাবেলায় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের দাবি

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০১৭, ১৯:৩২
 
উত্তর জনপদের হিমালয় পাদদেশে ঠাকুরগাঁও জেলার অবস্থান। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে অনেক উঁচু জেলা এটি। উঁচু এলাকা হওয়ায় ঠাকুরগাঁওসহ পার্শ্ববর্তী জেলা গুলোতে সহসা বন্যা হয় না। যে কারণে ঠাকুরগাঁও জেলায় আগে থেকে বন্যা নিয়ে মানুষের তেমন কোন প্রস্তুতি থাকে না।
 
চলতি বন্যায় এ পর্যন্ত পানিতে ডুবে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরো দুই জন। ত্রাণ আর বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়ে বানভাসি মানুষ। আশ্রয়ের জন্যও ছুটাছুটি করে অসহায় মানুষ। জেলায় বানভাসি মানুষের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ৬৫টি অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ১৪ হাজার মানুষের থাকার ব্যবস্থা করেন। আর অনেকেই সে সকল অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে জায়গা না পেয়ে রাস্তার পাশে গাছ তলায় পলিথিনের ছাউনি তৈরি করে আশ্রয় নেয়।
 
জেলার পানিবন্দী বহু মানুষ ঘরের মালামাল ও গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়ে। ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের বিভিন্ন উঁচু জায়গা গুলোতে আশ্রয় নেয় তারা। নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিনভর তাদের বাড়ির ওই সব মালামাল নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন দুর্গত মানুষেরা। বন্যা কবলিত উপজেলা গুলোতে বেশির ভাগ এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছে নাই। খাবারের পাশাপাশি নিজেদের থাকার জায়গা এবং গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়ে বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষ। 
 
বন্যায় ভোগান্তিরস্বীকার আশ্রয় কেন্দ্রের মানুষেরা জানিয়েছেন, অনেকেই সময় মত পর্যাপ্ত খাবার পায় নাই। ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে বিপাকে পড়েন অনেক মা। সম্বল হারানো মানুষ বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও খাবার সংকটে ভুগে। জেলায় সাধারণ মানুষেরা বন্যা সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য জেলার প্রতিটি উপজেলায় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ ও পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রাখার দাবি করেছেন স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের প্রতি।
 
ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু তোরাব মানিক বলেন, সরকার আগেই প্রতিটি জেলায় বন্যা মোকাবিলা করার জন্য আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করলে কোন প্রকার প্রাণ হানির ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশে কম হত। আমরা ঠাকুরগাঁওবাসি এ জেলায় একটি আশ্রয়কেন্দ্রের দাবি জানাচ্ছি।
 
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল জানান, জেলা আশ্রয়কেন্দ্রের প্রয়োজন আছে। এই জেলায় তেমন জলাবদ্ধতা ও বন্যার কোন পরিস্থিতি তেমন একটা হয় না। ১৯৮৮ সালের পর যে বর্তমানে জলাবদ্ধতা বা বন্যা হয়ে সেটি অনেক দিন পড়ে। আশ্রয় কেন্দ্র গুলো করলে সেগুলো দেখভাল করতে হয়, দীর্ঘদিন পড়ে থাকলে সেটা অন্য হয়ে পড়ে। তবে এ রকম করা যেতে পারে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা জন্য যদি বড় হল নির্মাণ করা হয়, তাহলে যেকোনো প্রাকৃতিক  দুর্যোগে সময় আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পাবে।
 
ইত্তেফাক/জামান