কোরবানির আগ মুহূর্তে ব্যস্ত সময় পার করছেন বগুড়ার নন্দীগ্রামের খামারিরা। নিষিদ্ধ ট্যাবলেটের মাধ্যমে আর অবৈধ পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করে কয়েক বছর যাবৎ লোকসান গুনছেন তারা। তাই তারা এবার আগে থেকেই সতর্ক। বেছে নিয়েছেন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। তারা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার না করে এবার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করছে।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার দাবি জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কড়া নজরদারির ফলে এমন ফল এসেছে।
প্রতি বছর কোরবানির ঈদে স্বাস্থ্যবান গরুর চাহিদা থাকে বেশি। দামও মেলে বেশি। তাই গত কয়েকবছর ধরে কৃত্রিম উপায়ে গরু মোটাতাজা করে আসছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খামারিরা। ঈদের তিন থেকে চার মাস আগে থেকে চলে মোটাতাজা করণের কাজ।
এ সময় বাড়তি খাবার দেয়াসহ চলে সার্বক্ষণিক পরিচর্যা। অনেকে অবশ্য ক্ষতিকর হরমোন বা স্টেরয়েড ট্যাবলেট দিয়ে এই চেষ্টা করেন। তবে এবার খামারিদের দাবি স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গরু মোটাতাজা করছেন তারা। কেননা গত কয়েক বছরে অবৈধ ওষুধ ব্যবহারের ফলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন তারা।
উপজেলার বুড়ইল, নন্দীগ্রাম সদর, ভাটরা, ভাটগ্রাম, থালতা মাজগ্রাম ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার কয়েক হাজার পরিবার গরু পালনের সঙ্গে জড়িত।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ শফিউল আলম জানান, এবছর নন্দীগ্রাম উপজেলায় খামারী ও কৃষকরা মিলে প্রায় নয় হাজার গরু মোটাতাজাকরণ করছে। আমরা খামারী ও কৃষকদের গরু হৃষ্টপুষ্ট করার জন্য পরামর্শ দিয়ে আসছি।
আমাদের দু’টি টিম প্রতিনিয়িত মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। এই কর্মকর্তা আরও জানান, ইতিমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাটে আমাদের মেডিকেল টিম কাজ শুরু করেছে।
খামারিরা জানান, তিন চার বছর ধরে আমরা যে টাকা খরচ করছি তা উঠছে না। তাই এবার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বেছে নিয়েছি। এবার ভারত থেকে গরু না আসলে প্রত্যাশিত দাম পাব বলে আশা করছি। পশুর হাটে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে গরু ঢোকানোর দাবি জানালেন এ সকল খামারিরা।
ইত্তেফাক/নূহু
