মাত্র ১০ ঘন্টার মধ্যে জেলার তিন উপজেলায় তিনটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। গত বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় বেলাব উপজেলার দড়িকান্দি গ্রামে ডাকাতের হাতে নিহত হয়েছেন এক প্রকৌশলী। এর একঘন্টা পর সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের কালিবাড়ী এলাকায় স্ত্রীর সামনে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হলেন সুজন সাহা নামে এক ব্যক্তি। এর আগে দুপুর দুটায় মনোহরদী উপজেলার গোতাশিয়া বাঘেরহাট বাজারে চুলকাটার কেঁচি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাতে হত্যা করা হয় মফিজউদ্দিন (৬০) নামে এক চা দোকানিকে। নিহত আল-আমিন তার মামার প্রতিষ্ঠান নরসিংদী প্ল্যানভিউ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে চাকরি করতেন। অফিস শেষে প্রায় প্রতিদিন রাতে তিনি মোটর সাইকেলযোগে তার বাড়ি রায়পুরা উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের সাহেরচর গ্রামে চলে যেতেন। গত বুধবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে তিনি বেলাব উপজেলার দড়িকান্দি গ্রামে পৌঁছালে একদল ডাকাত তার গতি রোধ করে। পরে তারা আল-আমিনকে ধরে নিকটবর্তী পাটক্ষেতে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। এরপর তারা আল-আমিনের এপাচি ব্র্যান্ডের মোটর সাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায়। হত্যাকাণ্ডের পর এক ডাকাত আল-আমিনের মোবাইল ফোন থেকে তার মামা প্রকৌশলী জহিরুল ইসলামকে ফোন করে। এসময় মামা তাকে জিজ্ঞেস করে আল-আমিন তুই কোথায়। তখন ডাকাতরা প্রত্যুত্তরে বলে আমিন এখন পাটক্ষেতে। এ কথা বলে ছিনতাইকারীরা মোবাইল ফোনের লাইন কেটে দেয়। এর একঘন্টা পর দ্বিতীয় হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয় নরসিংদী সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের কালিবাড়ি এলাকায়। দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন সুজন সাহা (৪০)।
জানা গেছে, সদর উপজেলার রাজাদী গ্রামের কাশিনাথ সাহা তার মেয়ের জামাই সুজন সাহা ও তার কন্যা অদিতি সাহাকে বাড়িতে বেড়িয়ে যাওয়ার জন্য দাওয়াত দেয়। গত বুধবার সুজন তার স্ত্রী অদিতিকে নিয়ে ঢাকা থেকে ট্রেনযোগে নরসিংদী রেলস্টেশনে এসে নামে। সেখান থেকে রিকশাযোগে রাজাদীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে চিনিশপুর কালিবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তার রিকশার গতিরোধ করে। পরে তারা অদিতিকে রিকশা থেকে ফেলে দিয়ে সুজনকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এসময় অদিতি চিত্কার করতে থাকলে আশেপাশের লোকজন দৌড়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সুজন সাহাকে দ্রুত নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে একই দিন দুপুর দুটায় মনোহরদী উপজেলার গোতাশিয়া বাঘেরহাট বাজারে চুলকাটার কেঁচি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাতে হত্যা করা হয় চা দোকানি মফিজউদ্দিনকে।
জানা যায়, হত্যাকারী সাইফুল একসময় থার্মেক্স গ্রুপের নারী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার পথে উত্ত্যক্ত করতো। মফিজউদ্দিন প্রতিবাদ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে সে পার্শ্ববর্তী সেলুন থেকে কেঁচি এনে মফিজউদ্দিনের গলা ও পেটে আঘাত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করে মনোহরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরও আগে গত রবিবার নরসিংদী শহরের পশ্চিম কান্দাপাড়া মহল্লার শান্তি সাহা নামে এক কাঁচামাল ব্যবসায়ীকে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দি করে বাদুয়ারচর রেললাইনের পাশে ফেলে রাখে ঘাতকরা। এ ব্যাপারে নরসিংদীর পুলিশ সুপার আমেনা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আমরা বিষয়টি নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। তদন্ত চলছে। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইনশাল্লাহ খুনিদেরকে খুঁজে বের করা হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
