তিন বছর ধরে বর্ষা মৌসুুম এলেই বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ ছিল অনেক শিশুর। এক দুই ফুট উচ্চতার শত গজ রাস্তা ও তিন চার ফুটের সামান্য গর্ত ভরাট হচ্ছে না বলেই রয়েছে এ সমস্যা।
খালিয়াজুরীর বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সমস্যাটি এবারের বর্ষায় ধারণ করেছে প্রকট আকার। সামান্য একটু পানি বেড়ে যাওয়ায় এখন ওই গর্ত পেরুলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভাঙতে হচ্ছে গলা পানি। বিদ্যালয়ে যাতায়াতে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি রয়েছে বলে বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বলরামপুর গ্রামের মূল সড়ক থেকে বিদ্যালয়টির দূরত্ব মাত্র ১শ গজ। কিন্তু অতি সামান্য ব্যয়ের এ রাস্তা নির্মাণে এগিয়ে আসেনি কোনো সরকারি বেসরকারি ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি দুলাল সরকার জানান, রাস্তাটির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিন বছর ধরেই বহু জায়গায় আবেদন নিবেদন করেছি। কিন্তু কেউই সাড়া দেয়নি।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক জানান, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পানিতে বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা এবং পুরো মাঠ ডুবে গেছে। রাস্তার গর্তটিতে শিশুদের গলাপানি হয়। কিছু শিক্ষার্থী নৌকায় চড়ে বিদ্যালয়ে আসতো। যাদের নৌকা নেই তারা আসতো বাড়তি পোশাক হাতে নিয়ে গলাপানি মাড়িয়ে। আবার অতিরিক্ত পানির কারণে অনেক শিক্ষার্থী এখন বিদ্যালয়ে আসা ছেড়েও দিয়েছিল।
উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, রাস্তা সমস্যা ও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে ঝুঁকি থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পানি না সরা পর্যন্ত এ বন্ধ অব্যাহত থাকবে।
ইত্তেফাক/নূহু
