নিজ উদ্যোগে সাত লাখ টাকা ব্যয়ে সাঁকো নির্মাণ

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৭, ১৮:০৯
 
সিরাজগঞ্জে কামারখন্দে নিজ উদ্যোগে ৯টি গ্রামের মানুষের জন্য সাড়ে ১১শ' মিটার বাঁশের সাঁকো গড়ে দিলেন সামছুল আলম শফি। উপজেলার দশসিকা গ্রামে জনসাধারণের সুবিধার্থে প্রায় সাত লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় এ সাঁকোটি তৈরি করেছেন তিনি।
 
এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে জনসাধারণ, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী, জরুরি রোগীসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ পারাপার হচ্ছে। বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করতে দুই মাস সময় লাগে প্রতিদিন গড়ে ১৫জন করে শ্রমিক কাজ করেছে। কামারখন্দ উপজেলার চর দশসিকা, চর শাহবাজপুর, উল্লাপাড়া উপজেলার তেঁতুলিয়া, চিলারপাড়া, ধুমছি, বড়হর, শুটকিপাড়া, সদাই, দমদমাসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেছে এই সাঁকো তৈরি হওয়াতে।
 
শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চড় দশসিকা গ্রামে ফুলজোড় নদীর উপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার হচ্ছে কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। সাঁকো তৈরির আগে পারাপারের এক মাত্র নির্ভরশীল ছিল নৌকা। যে নৌকা অনেক সময় পাওয়া যায় না আবার নৌকা থাকলেও পারাপার হতেও অনেক সময় লাগে সেই নৌকা আবার সন্ধ্যা নামলেই থাকে না। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী ও জরুরি রোগীদের যেন দুর্ভোগের কমতি ছিল না। এই বাঁশের সাঁকো হওয়াতে দুর্ভোগ কমেছে এসব অঞ্চলের প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষের।
 
সাঁকো তৈরির উদ্যোক্তা ও নির্মাতা চর দশসিকা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মাস্টারের ছেলে সামছুল আলম শফি জানান, চড় দশসিকা গ্রাম সহ কয়েকটি গ্রামের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্রসহ লাখ লাখ মানুষ নৌকায় এই নদী পারাপার হয়। সন্ধ্যা হলেই নৌকা পাওয়া যায় না এমনকি যদি কোন অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হয় সেটাও সম্ভব হয় না। দেখা যায় সঠিক সময়ে চিকিৎসার অভাবে রোগীর মৃত্যু হয়। তাই সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে নিজ উদ্যোগে প্রায় সাত লাখ টাকা ব্যয়ে সাঁকোটি নির্মাণ করেছি।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকন্দ মোহাম্মদ ফয়সাল উদ্দিন জানান, এভাবে যদি সাধারণ মানুষ দেশের উন্নয়নমূলক কাজে এগিয়ে আসে তাহলে দেশের উন্নয়ন তরান্বিত হবে। আমি এই সাঁকো তৈরির উদ্যোক্তা ও নির্মাতা সামছুল আলম শফিকে ব্যক্তিগত ভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
 
ইত্তেফাক/জামান