ঠাকুরগাঁওয়ের নিজের ছেলের আঘাতে নির্যাতিত সেই বৃদ্ধা 'মা' এখন ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের ভিআইপি রোগী হিসেবে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ওই বৃদ্ধা মায়ের চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন। প্রতিনিয়ত বৃদ্ধা মায়ের তদারকি করছেন কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্সরা।
প্রতিদিনই ওই বৃদ্ধা মাকে দেখতে হাসপাতালে ভিড় করছেন অনেকেই। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অনেক রোগীর স্বজনরা বলছেন, বৃদ্ধা 'মা'কে যেভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদারকি ও সাধারণ মানুষ দেখতে আসছেন। তা দেখে আমরা অবাক হচ্ছি। খুবই ভাল লাগছে একজন 'মা'-এর প্রতি অন্য সন্তানদের ভালবাসা দেখে।
ফেসবুকে ওই বৃদ্ধা 'মা'-এর দ্রুত সুস্থতার জন্য অনেকে দোয়া প্রার্থনা করছেন। দবিরুল মির্জা নামে একজন তার পোস্টে লিখেছেন, "মা তুমি আজ আদর্শ মায়ের মর্যাদার আসনে বসলে। তোমাকে একছেলে মেরে তাড়িয়ে দিয়েছে তাতে দুঃখ পেওনা। এখন তোমার অগণিত সন্তান মমতা মাখানো 'মা' বলে ডেকে তাদের অন্তরে স্থান দিয়েছে। মায়ের সব সন্তানকে ধন্যবাদ।"
সিভিল সার্জন ডা. আবু মো. খায়রুল কবির জানান, বৃদ্ধা মায়ের চিকিৎসার কোন অবহেলা যাতে না হয় সেজন্য কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্সদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল থেকে ওষুধ, খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। গত দু'দিনের থেকে বৃদ্ধা মায়ের চোখের সমস্যা কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল জানান, আমাদের মূল্যবোধগুলো যেন নষ্ট না হয়ে যায়, মায়ের উপর একজন সন্তান হাত তুলছে এটা খুবই ভীতিকর একটা সংবাদ। এই নির্যাতিত মায়ের ঘটনা থেকে আমরা সকলে শিক্ষা গ্রহণ করি পৃথিবীর কোন 'মা' যেন আবার নির্যাতনের শিকার না হয়। সকলে নির্যাতিত বৃদ্ধা মায়ের দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করবেন। সুস্থতার পর বৃদ্ধা মায়ের পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গ, ১৫ আগস্ট দুপুরে ছেলের বউয়ের কাছে ভাত খেতে চেয়েছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ডাঙ্গীপাড়া গ্রামের তসলিমা বেওয়া। এ কথা ছেলে দবির উদ্দিন জানতে পেরে লাঠি দিয়ে মাকে নির্যাতন করেন। লাঠির আঘাতে তসলিমার বাম চোখ থেঁতলে যায়। মাকে নির্যাতনের অভিযোগে ছেলে দবির উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে উপজেলার ডাঙ্গীপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গত বুধবার সকালে জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল ওই বৃদ্ধা মাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে তিনি ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ইত্তেফাক/জামান
