ভোলার ১৩৪টি আশ্রয়ন প্রকল্পের ২০টিই নদীগর্ভে

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৭, ১২:৩৮
দ্বীপ জেলা ভোলার ৭টি উপজেলার ১৩৪টি আশ্রয়ন প্রকল্পের মধ্যে ২০টিই নদী গর্ভে বিলীন, সম্পূর্ণ ব্যবহার অযোগ্য হওয়ায় অন্তত ৫টি থেকে বসবাসকারীরা অন্যত্র চলে গেছে। অবশিষ্ট ১০৯টি আশ্রয়ন প্রকল্পের বেশির ভাগেরই ঘরগুলোর নাজুক অবস্থা। কোন ঘরের চাল আছে তো বেড়া নেই, আবার বেড়া আছে তো দরজা নেই। এখানকার বেশিরভাগ নলকূপ থেকে পানি উঠেনা ও টয়লেট সমস্যাও প্রকট। বসবাসকারীরা নানা সমস্যার কথা জানিয়ে বলেছেন, বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা ব্যবহার অযোগ্য এসব ঘরে মানবেতর অবস্থায় থাকছেন প্রায় ১০ হাজার পরিবার।
 
সরজমিনে ভোলা-চরফ্যশন আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে বোরহানউদ্দিন উপজেলার পদ্মা মনসা আশ্রয়ন প্রকল্পে গিয়ে জানা যায়, ২০০৪ সনে নৌ-বাহিনীর মাধ্যমে এটি নির্মিত হয়। এখানে নারী ও শিশুসহ অন্তত দেড় হাজার মানুষ বসবাস করছে। আশ্রিত পরিবারের সংখ্যা ১৫৪। এদের জন্য নির্মিত ১২টি নলকূপের মধ্যে সচল আছে মাত্র চারটি। প্রতি পাঁচ পরিবারের জন্য বাথরুম আছে একটি, তাও আবার ব্যবহার অযোগ্য। যারা এখানে বাস করছেন তাদের ঘরগুলোর কোনটির ঘরের চাল আছে তো বেড়া নেই, আবার বেড়া আছে তো দরজা নেই। বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা ব্যবহার অযোগ্য এসব ঘরে মানবেতর অবস্থায় থাকছেন। শুধু ভাঙ্গা ঘরই নয়, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা সুবিধা থেকেও বঞ্চিত আশ্রয় কেন্দ্রর বাসিন্দারা। নির্মাণের পর থেকে এ আশ্রয় কেন্দ্রের কোন প্রকার সংস্কার হয়নি। ভোলার বর্তমানে বসবাসকারী ১০৯টি আশ্রয়ন প্রকল্পের বেশির ভাগেরই অবস্থা বর্তমানে এরচেয়েও খারাপ। সেখানকার বাসিন্দাদের জন্য নেই নূন্যতম চিকিৎসার ব্যবস্থা। 
IMG0
ভোলার নদীগর্ভে বিলীন হওয়া আশ্রয়ন প্রকল্পগুলো হচ্ছে ভোলা সদরের রামদেবপুর-১, খরকি-গণেশপুর ও কালুপুরা আশ্রয়ন, তজুমদ্দিন উপজেলার চর জহির উদ্দিন, ডা. আজহারউদ্দিন,  রাদিম, রবিপুর, জয়নালপুর, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, করতোয়া, চর জহিরউদ্দিন শাহরুখ, আহম্মদ, ডরিনা, রংধনু ও চর জহিরউদ্দিন আশ্রয়ন, দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ নলডুগী বৈকুণ্ঠপুর ও চর মুন্সি আশ্রয়ন।
 
বোরহানউদ্দিন উপজেলার পদ্মা মনসা আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা মোসাম্মৎ রহিমা বেগম, মো. শাহ আলম, মো. বাদশু মিয়া, মোসাম্মৎ বেগম, আলতাফ সর্দার ভোলা সদরের চরগাজী আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা  লোকমান হোসেন, কবির মিয়া, বিবি আয়শা জানান, তাদের বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা ব্যবহার অযোগ্য এসব ঘরে মানবেতর অবস্থায় থাকছেন। তাদের নেই যথাযথ সেনিটেশন ব্যাবস্থা। অনেক আশ্রয়ন প্রকল্পে নেই শিশুদের কোন শিক্ষার ব্যবস্থা। যে সমস্ত আশ্রয়ন মেঘনা গর্ভে বিলীন হয়েছে সেখানকার বেশিরভাগ বাসিন্দাই বেড়ি বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। 
IMG1
ভোলা জেলা প্রশাসক মো. সেলিম উদ্দিন ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সর্বত্রই স্বীকার করে বলেন, বেশির ভাগ আশ্রয়ন প্রকল্পের মেরামতের জন্য কর্তৃপক্ষ বরাবরে পত্র দিয়েছেন। বরাদ্দ এলেই মেরামতের ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য, গত জানুয়ারি মাসে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সাক্ষাৎকারেও এই জেলা প্রশাসক একই কথা বলেছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, মানবিক দিক বিবেচনা করে সরকার যেন ভোলার বসবাস অযোগ্য আশ্রয়ন ব্যরাক ঘরগুলোর মেরামতের জরুরি ব্যবস্থা নেন।
 
ইত্তেফাক/এমআই