প্রধানমন্ত্রী হত্যা চেষ্টা মামলার রায়ে খুশি কোটালীপাড়াবাসী

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৭, ১৩:২২
 
জনসভাস্থলে বোমা পুঁতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হত্যা চেষ্টা মামলার রায়ে  গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়াবাসী সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তারা প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য, সাফল্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছে। এছাড়া জীবন দিয়ে হলেও প্রধানমন্ত্রীর প্রাণ রক্ষার অঙ্গীকার করেছেন তারা।
 
বিগত ২০০০ সালের ২২ জুলাই কোটালীপাড়া শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ সরকারি কলেজ মাঠে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় ২টি দূর নিয়ন্ত্রিত বোমা পুঁতে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ।
 
২০ জুলাই সকালে জনসভার পাশের পুকুরে পানি আনতে যান চায়ের দোকানদার বদিউজ্জামান সরদার। তার পানির কলসে বৈদ্যুতিক ক্যাবল জড়িয়ে যায়। এ তারের সূত্র ধরেই পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ওই দিন জনসভাস্থলের পাশ থেকে ৭৬ কেজি ওজনের একটি বোমা উদ্ধার করেন। ২২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী ওই মাঠে জনসভা করেন।  ২৪ জুলাই কোটালীপাড়া হেলিপ্যাডের পাশ থেকে ৮০ কেজি ওজনের আরো একটি বোমা উদ্ধার করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। ২৫ জুলাই পুলিশ গোপালগঞ্জ শহরের বিসিক শিল্প নগরী থেকে হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান মুন্সির হেমাঙ্গনের ভাড়াকরা বাস ভবন ও সাবান ফ্যাক্টরি থেকে বোম তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে।  এ ঘটনায় কোটালীপাড়া থানার এস.আই নূর হোসেন বাদী হয়ে ১৪ জনকে আসামী করে হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে  মামলা দায়ের করেন।
 
তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মুন্সি আতিকুর রহমান  গোপালগঞ্জের আদালতে মুফতি হান্নান সহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে  ২০০১ সালের ৮ এপ্রিল চার্জশীট দাখিল করেন। ২০০৯ সালের ২৯ জুন নতুন করে ৯ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে এ মামলার সম্পূরক চার্জশীট দাখিল করা হয়। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ২০১০ সালে মামলাটি গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকার ২ নং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করা হয়।
 
ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর গ্রেনেড হামলা মামলায় মুফতি হান্নানের ফাঁসি চলতি বছরের ১২ এপ্রিল কার্যকর হয়। এ কারণে তাকে এ মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। দুই মামলার ২৪ আসামির মধ্যে ১২জন কারাগারে রয়েছে। পলাতক রয়েছেন ১২ জন।
 
কোটালীপাড়া উপজেলার বদিউজ্জামান সরদার বলেন, ২০০০ সালের ২০ জুলাই পুকুরে পানি আনতে গিয়ে তারের সন্ধান পেয়ে ছিলাম। ওই সূত্রধরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থলে পুঁতে রাখা বোমা উদ্ধার করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর জীবন রক্ষা পায়। প্রধানমন্ত্রী বেঁচে আছেন বলেই তিনি বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সব জায়গায় উন্নয়ন হচ্ছে। আমাদের ভাগ্যের উন্নতি ঘটাচ্ছেন। আল্লাহর কাছে আমি তার দীর্ঘায়ু কামনা করি।
 
জেলা পরিষদের সদস্য নজরুল ইসলাম হাজরা মন্নু রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, কোটালীপাড়ায় কোন জঙ্গি সন্ত্রাসীর ঠাঁই হবেনা। আমরা জঙ্গিবাদকে যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করবো। জীবন দিয়ে হলেও প্রধানমন্ত্রীকে রক্ষা করবো। আমি প্রধানমন্ত্রীর সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
 
কোটালীপাড়া পৌরসভার মেয়র এইচ এম অহিদুল ইসলাম  বলেন, এ রায়ে আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। এ মামলায় আমি সাক্ষ্য দিয়েছি। রায়ে খুশি হয়েছি। ২০ জুলাই জনসভাস্থল  থেকে  বোমা উদ্ধারের পর প্রধানমন্ত্রী ২২ জুলাই জনসভায় যোগ দেন। হেলিপ্যাডে সামনে তখনও একটি বোমা ছিলো। আল্লাহ সহায় ছিলেন তাই প্রধানমন্ত্রী জনসভা  শেষে প্রাণে বেঁচে ফিরেছিলেন।
 
কোটালীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় ২ টি বোমাপুঁতে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। আল্লাহ প্রধানমন্ত্রীকে রক্ষা করেছেন। তাকে হত্যা চেষ্টা মামলায় রায়ে আমরা খুশি। সাজাপ্রাপ্তদের রায় দ্রুত কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে তাদের সাজা কার্যকর করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের জীবন দিয়ে হলেও আমরা প্রধানমন্ত্রীর জীবন রক্ষার অঙ্গীকারাবদ্ধ।
 
ইত্তেফাক/এমআর