প্রায় আড়াই মাস পর আজ সোমবার বেলা ১১টা থেকে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কে বিধস্ত হওয়া শালবাগান এলাকায় নির্মিত বেইলি ব্রিজের ওপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল শুরু হবে। সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে বলে গতকাল রবিবার বিকেলে দৈনিক ইত্তেফাককে নিশ্চিত করেছেন, রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এমদাদ হোসেন। প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুন পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে স্মরণকালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে পাহাড় ধসে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কের শালবন এলাকা বিধ্বস্ত হওয়া অংশে নির্মিত বহু আকাঙ্ক্ষিত বেইলি সেতুটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ররিবার বিকালে কিছু চালককে পরীক্ষামূলকভাবে সেতুটির ওপর দিয়ে যানবাহন চালাতে দেখা গেছে।
অপরদিকে, গত ১৩ জুন ভয়াবহ পাহাড় ধসের ৮ দিনের মাথায় সেনাবাহিনীর সহায়তায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ বিধ্বস্ত পাহাড়ের পাদদেশ দিয়ে হালকা যান চলাচল উপযোগী রাস্তা নির্মাণ করে দিলেও ভারী যানবাহন চলাচল করতে না পারায় সমগ্র রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়েছিল। এতে চট্টগ্রাম ও ঢাকাগামী যাত্রীবাহী যানচলাচল বিঘ্ন হওয়ায় জেলাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। পর্যটন শহরে পর্যটন শূন্য হয়ে সরকারি-বেসরকারি হোটেল-মোটেলগুলোর ব্যবসায়ও যেন ধস নেমেছিল। চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কের শালবাগান এলাকায় নতুন বেইলি সেতুর কাজ শেষ হওয়ায় পাহাড় ধসের প্রাকৃতিক দুর্যোগের দীর্ঘ প্রায় আড়াই মাস পর রাঙ্গামাটির জীবনযাত্রা আবার পুরোপুরি সচল হওয়ার আশা করছে পার্বত্য এ জেলাবাসী। চাঙ্গা হয়ে উঠছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক অবস্থা। এর মধ্য দিয়ে জনমনে ফিরতে শুরু করেছে স্বস্তি।
রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন গতকাল রবিবার দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কের সাপছড়ি শালবন এলাকার বিধ্বস্ত অংশে বেইলি সেতুর কাজ শেষ। এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। মেসার্স রাঙ্গামাটি ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এ বেইলি সেতুটি নির্মাণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। এ ধরনের সেতু নির্মাণে সময় দরকার কমপক্ষে তিন মাস। কিন্তু বৃষ্টিপাতের মধ্যেও আমরা এ সেতুর কাজ মাত্র এক মাস দশ দিনে শেষ করতে সক্ষম হয়েছি। এর মধ্য দিয়েই জাতীয় মহাসড়কের অন্তর্ভুক্ত চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কে পুরোপুরি যান চলাচল সচল হবে। তিনি আরো জানান, দ্রুত করা হলেও এ বেইলি সেতুর কাজ স্থায়িত্বের জন্য অত্যন্ত মজবুত করা হয়েছে। এ ধরনের বেইলি সেতু নির্মাণে সাধারণত ১০০ থেকে ১২০ ফুট অন্তর স্পেন স্থাপন করা হয়। কিন্তু অধিক নিরাপত্তা ও ঝুঁকিমুক্ত রাখতে এ বেইলি সেতু নির্মাণে স্পেন স্থাপন করা হয়েছে ৪০ ফুট অন্তর। বেইলি সেতুর দৈর্ঘ্য ৫০ মিটার এবং প্রস্থ ৩ দশমিক ৬৬ মিটার বলে জানান তিনি। অধিক নিরাপত্তার স্বার্থে অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই ও ভারী যান চলাচল করতে দেয়া হবে না। চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কের অন্য বিধ্বস্ত অংশের কাজ প্রায় শেষ। শিগগিরই গোটা সড়ক সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত হয়ে উঠবে। সড়কের অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত অংশেও মেরামত কাজ চলছে।
ইত্তেফাক/কেকে
