চিত্রাপাড়ের মিনি সুন্দরবনে বন্য প্রাণীরা হুমকির মুখে

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৭, ০২:৩২

রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেখা না মিললেও চিত্রার চরে মিনি সুন্দরবনে রয়েছে অসংখ্য মেছোবাঘ। এ বনজুড়ে রয়েছে তাদের রাজত্ব। দিন-রাত বনের এদিক-ওদিক দাপিয়ে বেড়ায় তারা। সুযোগ পেলে আশেপাশের লোকজনের বাড়িতে হানা দিয়ে হাঁস-মুরগি তুলে নিয়ে যায়। ফলে গ্রামবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে অনেক সময় এদের হত্যা করে থাকে।

সুন্দরবনের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় শত কিলোমিটার উত্তরে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে যাওয়া চিত্রানদীর দু’পাড়ে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নিয়েছে সুন্দরী, কেওড়া, গরান, ওড়া এবং গোলপাতাসহ সুন্দরবনের নানা প্রজাতির গাছপালা। আর এসব গাছপালা জন্ম নেওয়ার কারণে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে এখানকার নদীপাড়ের রায়গ্রাম, শুড়িগাতী, খিলিগাতী, ডুমুরিয়া, আরুলিয়া, খড়িয়াসহ আশেপাশের প্রায় ১০-১৫টি গ্রাম এখন বনাঞ্চলে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বিলুপ্ত প্রজাতির অনেক প্রাণীর দেখা মেলে এ বনে। বনবিড়াল, মেছোবাঘ, খাটাশ এবং কুমির আকৃতির বড় গুইসাপের উপস্থিতি এখানে চোখে পড়ার মত। এছাড়া এখানকার গাছ-পালায় ঘুঘু, শালিক, দোয়েল, বাঁদুড়, বক, পানকৌড়িসহ নানা প্রজাতির হাজার-হাজার পাখি এসে আশ্রয় নিয়েছে। পাশাপাশি শীত মৌসুমে অনেক পরিযায়ী পাখি এখানে আশ্রয় নেয়। আর এ সুযোগে একশ্রেণির অসাধু  লোকজন ফাঁদ পেতে ও বন্দুক দিয়ে বিভিন্ন সময় এসব পাখি শিকার করে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া চিত্রা নদীতে নাব্যতা হারিয়ে যাওয়ায় এবং উপযুক্ত আশ্রয়স্থলের অভাবে ডলফিনসহ অন্যান্য প্রজাতির প্রাণী এখন হুমকির মুখে। বিষয়টি নিয়ে পরিবেশবিদ ও সচেতন মহল হতাশা প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে জেলা বন কর্মকর্তা মোঃ সাইদুল ইসলাম জানান, চিত্রাপাড়ের মিনি সুন্দরবনে যাতে কেউ কোনো প্রাণী হত্যা করতে না পারে সে ব্যাপারে তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

এছাড়া এ বনকে রক্ষণাবেক্ষণসহ প্রাণী ও পাখিদের জন্য  নিরাপদ আশ্রয়স্থল গড়ে তোলা হবে বলে আশ্বাস দেন। এ বিষয়ে প্রাণী ও পাখিবিশেষজ্ঞ শরীফ খান জানান, যেহেতু অনেক প্রাণীই এখন বিলুপ্তির পথে সেহেতু বন্যপ্রাণী রক্ষা করা খুবই  জরুরি। এর জন্য আমাদের সকলের সচেতনতা দরকার। জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস জানান, বন্যপ্রাণী ধরা এবং হত্যা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, কেউ যাতে এদের হত্যা করতে না পারে সে ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/নূহু