ঝিনাইগাতীর মহারশি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৭, ০২:৩৩

ঝিনাইগাতীর মহারশি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। গত এক যুগ ধরে এখানে চলছে বালু লুটপাট। জানা যায়, স্থানীয় বালু দস্যুরা গোমড়া ও আশপাশের এলাকা থেকে ২৫/৩০টি শ্যালো মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু লুটপাট করে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, এখান থেকে প্রতিদিন গড়ে ৪০/৫০ ট্রাক বালু উত্তোলন করা হয়। দিনে-রাতে উত্তোলন করা হচ্ছে বালু। প্রতি ট্রাক বালু বিক্রি করা হয় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। এতে প্রতিদিন গড়ে ৩/৪ লাখ টাকা মূল্যের বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব বালু ট্রাকযোগে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হলেও বালু দস্যুদের দাপটে প্রশাসন অসহায়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বালু উত্তোলনের ব্যাপারে কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মাঝে-মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে উত্তোলন যন্ত্র ধ্বংস করা হলেও বালু দস্যুদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে এলজিইডি’র প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মহারশি নদীর সন্ধ্যাকুড়া ব্রিজটি এখন হুমকির সম্মুখীন।

ব্রিজের ব্যাজপ্লেটের ২০ ফুট নিচ থেকে মাটি সরে গেছে। বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। বন-বিভাগের সন্ধ্যাকুড়া সেগুন ও গজারী বাগান বালু উত্তোলনের কাজে মাঠ হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাগান। শুধু তাই নয়, বাগানের গাছ কেটে তৈরি করা হয়েছে ট্রাক যাতায়াতের রাস্তা।

এলাকাবাসী জানায়, রামেরকুড়া গ্রামের ছামিউল ফকির, সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের কেরামত আলী, কিবরিয়া ও শাহ আলমের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ বালু দস্যুরা দীর্ঘদিন থেকে বালু লুটপাট চালিয়ে আসছে। এদের দাপটে কেউ প্রতিবাদ করতেও সাহস পায় না। আবার কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করারও অভিযোগ রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করে দেওয়ারও হুমকি আসে বিভিন্ন মহল থেকে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ারের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান চালিয়ে গত দু’মাসে প্রায় ৪০টি উত্তোলন যন্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে এবং বালু উত্তোলন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ইত্তেফাক/নূহু