নওয়াপাড়া - সুন্দলী সড়ক মেরামতের এক মাস না যেতেই খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে পিচ খোঁয়া উঠতে শুরু করেছে। অভয়নগর ও মনিরামপুর উপজেলা সংযোগের সোজা সড়কটিতে যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি শুরু হলো আবার। অভয়নগর উপজেলা প্রকৌশলীর প্রস্তাবনা অনুযায়ী বরাদ্দ না দেওয়ার কারণে রাস্তাটির এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। রাস্তাটি পুনরায় মেরামতের প্রস্তুতি চলছে।
জানা গেছে, ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নওয়াপাড়া নূরবাগ হয়ে সুন্দলী সড়কের ৫ হাজার ১১০ মিটার রাস্তার মেরামতের কার্যাদেশ দেওয়া হয় যশোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিশ্বজিত কনস্ট্রাকশনকে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ৩০ এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করার আদেশ দেওয়া হয়। সে মোতাবেক কাজটি যথা সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সড়কটিতে বরাদ্দকৃত ৫ শতাংশ নিরাপত্তা জনিত অর্থ বাদে সমুদয় বিল উত্তোলন করা হয়েছে। কিন্তু সঠিক নিয়মে কাজ না হওয়ার কারণে জুলাই মাসের শেষ দিকে কয়েক দফা ভারী বর্ষণের পর থেকে রাস্তাটিতে খানাখন্দ সৃষ্টি হতে শুরু করে। বর্তমানে সমুদয় রাস্তার কার্পেটিংয়ে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং পিচ খোঁয়া উঠতে শুরু করেছে। এর চার বছর আগে রাস্তাটিতে আরো একবার মেরামতের কাজ হয়েছিল। সেবারও এক বছরের মাথায় রাস্তার পিচ খোঁয়া উঠে খানাখন্দের সৃষ্টি হতে থাকে। সর্বশেষ গত বছরে ভবদহ অঞ্চলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে রাস্তাটি জলমগ্ন হয়ে করুণ অবস্থার সৃষ্টি হয়। খানাখন্দে ভরে যায় সমুদয় রাস্তাটি। সড়কের প্রায় চার কিলোমিটার যানবাহন চলাচলে মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে সাত কিলোমিটার ঘুরে যানবাহন চলাচল করে বিকল্প সড়কে।
ইজিবাইক চালক সরিফুল ইসলাম জানান, তিন বছর খানাখন্দের মধ্যে গাড়ি চালিয়ে হাফিয়ে পড়েছিলাম । এ বছর মেরামত হলে একটু স্বস্তি ফিরে পেয়েছিলাম। কিন্তু রাস্তা মেরামতের এক মাসের মাথায় দেখছি আবার খানাখন্দে ভরে যাচ্ছে। পিচ খোঁয়া উঠতে শুরু করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী সরদার কামরুল ইসলাম বলেন, আমি মাত্র কয়েক দিন আগে এসেছি, এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ আমি এখনো পাইনি। বিষয়টি আমার জানা নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত)মনদীপ ঘরাই বলেন, বিষয়টি আমার এখতিয়ারের বাইরে। তবে এলাকাবাসী অভিযোগ করলে আমি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবো।
রাস্তার কাজ চলাকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা উপ-সহকারি প্রকৌশলী গৌতম হালদার জানান, আমারা উপজেলা থেকে প্রস্তাবনা করেছিলাম নতুন করে সড়কটি মেরামতের কাজ করার জন্য। কিন্তু জেলা অফিস থেকে আমাদের প্রস্তাবনা বাদ দিয়ে মেকাডোম ছাড়া মেরামতের বরাদ্দ দেওয়া হয় যে কারণে মেরামতের পর পরই এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, ঠিকাদারের ৫ শতাংশ টাকা আটকানো আছে আমরা দ্রুত রাস্তাটির পুনঃ মেরামতের কাজ করবো।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক বিশ্বজিৎ কুমার জানান, আমি সঠিক নিয়মে কাজ করেছি। রাস্তায় ট্রাকটর দিয়ে চাষ দিয়ে খানাখন্দ সমান করে নিয়েছিলাম। ম্যাকাডোম করার কথা সিডিউলে ছিলনা। ২৫ সেমি কার্পেটিংয়ের কাজ করেছি। ভারী বর্ষণের কারণে রাস্তার পিচ উঠে যেতে পারে।
ইত্তেফাক/ রেজা
