কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে ভেঙে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু সেতুর গাইড বাঁধ

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৭, ২১:৪৪
বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব দক্ষিণের গাইড বাঁধে মঙ্গলবার বিকাল হতে রাত নয়টা পর্যন্ত বাঁধের ১ হাজার মিটার অংশ ধসে গেছে। এতে বাঁধের ব্লক ধসে গিয়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে করে ভাঙনের সাথে ধস অব্যাহত রয়েছে। টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার গরিলা বাড়ির সেতু এলাকা যমুনা নদীতে এই ভাঙন শুরু হয়েছে।
 
এদিকে গত শনিবার থেকে অব্যাহতভাবে সেতুর বাঁধে ধস ও ভাঙনরোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করেনি বিবিএ কর্তৃপক্ষ। সেতুটির সাইট অফিসের প্রকৌশলীরা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করেছেন বলে জানিয়েছেন।
 
দক্ষিণ বেলটিয়া গ্রামের আব্দুল আলীম ও চাঁন মিয়া শিকদারসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, বিবিএ কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে বালু খেকোরা অবৈধভাবে বাঁধের অংশ থেকে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে বাঁধে ভাঙন ও ধস শুরু হয়েছে। বিকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১ হাজার মিটার বাঁধ নদী গর্ভে চলে গেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সেতু এলাকায় তীব্র ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
 
জানা গেছে, ২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব কালিহাতী উপজেলার গরিলাবাড়ি এলাকায় সেতুর দক্ষিণের গাইড বাঁধে কয়েকটি গ্রাম রক্ষার্থে যমুনা নদীতে সিসি ব্লক ও কার্পেটিং করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ)। বাঁধ তৈরির ১৪ বছর পর বিবিএ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে সেতুর গাইড বাঁধ অংশ ভেঙে যাচ্ছে। 
 
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন যাবত্ সেতুর নিকট থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলণ করায় এবং যমুনার পানি কমে যাওয়ায় এই বাঁধে ভাঙ্গণ দেখা দিয়েছে। বাঁধটি দ্রুত মেরামত করা না গেলে একদিকে সেতুটি হুমকির মুখে পড়বে অন্যদিকে আশপাশের প্রায় ৭ থেকে ৮টি গ্রাম নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হটাত্ করে তীব্র ভাঙ্গণের ফলে চরম বিপাকে পরেছে ভাঙ্গণ কবলিতর। ভাঙ্গণের তীব্রতা বেড়েই চলছে। মানুষ ঘরবাড়ি সরানোর সময়টুকু পাচ্ছেনা। অসহায় হয়ে পড়ছে তারা।
 
বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) সাইট অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহীন হোসেন  বলেন, সেতুর দক্ষিণের গাইড বাঁধের অংশে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। সেতুর এতে বঙ্গবন্ধু সেতু হুমকিতে রয়েছে।
 
এরআগে গত শনিবার বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) দায়িত্ব প্রাপ্ত সহকারি প্রকৌশলী মো. ওয়াসিম আলী জানিয়েছিলেন, মুল সেতুর বাইরে ধসের ঘটনা ঘটেছে। রাস্তা ভেঙে যায়নি। ধসের অংশটুকু সেতুর মধ্যে পরে না।
 

ইত্তেফাক/এএম।