নদী ভাঙনের ভয়াবহ ঝুঁকিতে ২৯ এলাকা

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০১৭, ০৩:১৬


দেশের ২৯টি এলাকা মারাত্মক নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে করে কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুভিটা হারানোর আতঙ্কে রয়েছেন। স্যাটেলাইটে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গবেষণা করে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠান সিইজিআইএস (সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল এন্ড জিয়গ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস) ২৯টি স্থানকে নদী ভাঙনের ঝুঁকির স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ভাঙনের তীব্রতা ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ঝুঁকির ওপর ভিত্তি করে ব্র্যাক কুড়িগ্রামের রৌমারী, বগুড়ার সারিয়াকান্দি, রাজবাড়ির পাংশা, কালুখালী, শরীয়তপুরের জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার  মানুষকে সতর্ক করার কাজ করছে।

গত সোমবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত স্থানীয় পর্যায়ে নদী ভাঙনের ঝুঁকি, পূর্বাভাস, সতর্কীকরণ, প্রচার ও করণীয় বিষয়ক পরামর্শ সভা’য় এ তথ্য দেওয়া হয়। সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, সিইজিআইএস এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক যৌথভাবে এ সভার আয়োজন  করে।

সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, বড় নদীগুলোর চ্যানেল পরিবর্তন এবং বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়ার কারণে দেশে নদী ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে। ফলে প্রতি বছর নদী তীরবর্তী অসংখ্য মানুষ বসতভিটাসহ আবাদি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন। এ অবস্থায় নদী ভাঙনের আগাম তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া খুবই জরুরি।

ভাঙন-কবলিত এলাকাগুলো রক্ষা করতে বক্তারা নদীর তীর সংরক্ষণ, নতুন বাঁধ নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানান।

ব্র্যাকের পরিচালক গওহার নঈম ওয়ারা বলেন, নদী ভাঙনের পূর্বাভাস প্রদানে প্রযুক্তিগত যে দক্ষতা আমরা অর্জন করেছি, তা তখনই সার্থক হবে, যদি তা আমরা সময়মতো সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারি এবং নদীশাসনের কর্মকাণ্ডে এ তথ্যসমূহ ব্যবহার করতে পারি।

সিইজিআইএস-এর উপ-নির্বাহী পরিচালক ড. মমিনুল হক সরকার নদী ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে বন্যা, সাইক্লোনের কারণে ব্যক্তির ক্ষতি হলেও সে তার জায়গা হারায় না। কিন্তু নদী ভাঙনে মানুষ তার জমি বা ভিটে বাড়িও হারায়। তাই এ সমস্যা নিরসনে আমাদেরকে নদী ব্যবস্থাপনার দিকে বেশি দৃষ্টি দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে নদী ভাঙনের পূর্বাভাস শীর্ষক উপস্থাপনা তুলে ধরেন সিইজিআইএস-এর রিভার, ডেল্টা অ্যান্ড কোস্টাল মরফোলজি ডিভিশনের জুনিয়র স্পেশালিস্ট সুদীপ্ত কুমার হোড়। এ ছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির (ডিএমসিসি) সিনিয়র সেক্টর স্পেশালিস্ট মো. জাফর ইকবাল, ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেইঞ্জ কর্মসূচির পরিচালক কে এ এম মোর্শেদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (কাবিখা-১)  সৈয়দা মেহেরুন নেছা কবীরসহ পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা।

ইত্তেফাক/নূহু