মো. অমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের বেশির ভাগ কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইটভাটাগুলোতে। এরফলে ওই জমিগুলোর ঊর্বরতা শক্তি যেমন কমে যাচ্ছে তেমনি মাটি কাটা জমির পাশের জমিগুলোর পাড় ভেঙে পড়ে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। অনেক জমিতে অতিরিক্ত করে মাটি কাটার ফলে পাশের জমিগুলোতে পানি ধরে রাখা কষ্টকর হয়ে পড়ছে। এছাড়া মাটি বহনে ট্রাক্টর ব্যবহারের কারণে পাশের ফসলি জমিগুলোর ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে মাটি বিক্রি না করেই চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন অনেক কৃষক।
কামারপুকুর ইউনিয়নের বক্সাপাড়ার কৃষক সুলতান বলেন, আমি ৩০ শতক জমিতে বোরো আবাদ করেছি। কিন্তু পাশের জমির মালিক ইটভাটার কাছে মাটি বিক্রি করেছেন। এ কারণে ইটভাটার মালিক এরশাদ প্রায় তিন ফিট গভীর করে মাটি কেটে নিয়ে গেছেন। এতে ওই জমিতে বিশালাকার গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া পাড় ভেঙে পড়ায় বরেন্দ্র সেচ প্রকল্পের নালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সেচ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, বাধ্য হয়ে জমিতে সেচ দেয়ার জন্য এক হাজার আটশ’ টাকায় প্লাস্টিকের পাইপ এবং আটশ’ টাকায় বাঁশ কিনে মজুর সংগ্রহ করে বিকল্প সেচের ব্যবস্থা করি। এরপরও জমিতে পানি সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের আইসঢাল গ্রামের আজিজার রহমান, কুজিপুকুর গ্রামের আজিজুল ইসলাম, নিজবাড়ি গ্রামের নূর হোসেন জানান, এই ইউনিয়নের মাটি ইটভাটা করার উপযোগী হওয়ায় বেশির ভাগ ইটভাটা এখানে গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে এখানকার আবাদি জমি দিন দিন কমে যাচ্ছে।
কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান আশা জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল করিম লোকমান জানান, মাটি কেটে নেওয়ার ফলে যেমন জমির ও ফসলের ক্ষতি হচ্ছে তেমনি রাস্তাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বার বার এ বিষয়ে বলা সত্ত্বেও ইটভাটা মালিকরা জমির মালিকদের ম্যানেজ করে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নীলফামারীর উপ-পরিচালক আবুল কাশেম আজাদ জানান, কৃষকদের নিষেধ করার পরও তারা ফসলি জমির মাটি বিক্রি করছেন। আমাদের জনবলের অনেক অভাব রয়েছে। ইটভাটার মালিকরা খুবই শক্তিশালী। তারা কোনো কিছুর তোয়াক্কা করেন না। তাদের বাধা-নিষেধ করা সত্ত্বেও মাটি কেটে নিয়ে যায়।
প্রসঙ্গত, সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নে ২২টি ইটভাটা রয়েছে। ইটভাটার সিংহভাগ মাটিই আশপাশের কৃষি জমি থেকে কেটে নেওয়া হয়।
