গরু পালন করে দিশাহারা কৃষক

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৭, ০১:২৭

নীলফামারীর জলঢাকায় গরুর হাটগুলোতে কোন ভারতীয় গরু নেই। হাটেও প্রচুর গরু। কিন্তু অভাব দেখা দিয়েছে ক্রেতার। গত বছরের তুলনায় এ বছর গরুর দামও কম। তারপরেও বিক্রি নাই বললে চলে।

উপজেলায় গরু ক্রয় ও বিক্রয়ের জন্য মোট ৬টি হাট রয়েছে। এরমধ্যে ৪টি হাট গরুর জন্য বিখ্যাত। হাটগুলোতে শুধু জলঢাকা উপজেলা নয়, পার্শ্ববর্তী কয়েক উপজেলা থেকে গরু আসে। প্রতিটি হাটে কয়েক হাজার গরুর আমদানি হয়। বিভিন্ন গরুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, দেশি গরুর প্রচুর আমদানি হয়েছে এবং গরুর মালিকদের মুখে হতাশার ছাপ।

গত মঙ্গলবার উপজেলার মীরগঞ্জ গরুর হাটে কথা হয় গরুর মালিক কৃষক মোতাহারের সাথে। তিনি জানান যে, আমার ১শ গরু কেনা আছে। গরুগুলো গত এক বছর আগে কিনেছি, এবছর সব গরুই বিক্রিযোগ্য। ৩/৪ হাট থেকে গরু নিয়ে ঘুরছি হাটে গরু কেনার লোক নাই। যদিও ২/৪ টা গরু বিক্রি হচ্ছে, তা আবার দাম কম। প্রতিটি গরুতে ৪/৫ হাজার টাকা দাম কম হবে। গরুর যে অবস্থা দেখছি আমার ভবিষৎ কি হবে আল্লাহ্ ছাড়া আর কেউ জানে না।

উপজেলার শালন গ্রাম এলাকার গরুর মালিক দিন মজুর নুরল ইসলাম, কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার নিজের ২টা গরু এবং মানুষের ২টা গরু আদি (বর্গা) নেওয়া আছে। সেই গরু দিনরাত পরিশ্রম করে বড় করলাম। ঈদে বিক্রি করে ঐ টাকা দিয়ে ঘরে আমার একটা বিবাহ যোগ্য কন্যা আছে, তাকে একজন সু পাত্রের হাতে তুলে দিব। এখন গরুর দাম দেখে মনে হয়, আমার আসল টাকাটা ফিরত পাবো না।

হাটে কোরবানির গরু খরিদ করতে আসেন, মীরগঞ্জ হাট ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বজলুর রহমান বজু। তিনি বলেন, মীরগঞ্জ গরুর হাটটি আমার কলেজ সংলগ্ন, গত বছরগুলোতে ঈদের হাট যেভাবে দেখেছি, তার সিকি পরিমানও বিক্রি এবার দেখছি না। আমি যতটুকু জানি, এই হাটটা ১০/১২ জন মিলে কোটি টাকার উপরে ইজারা নিয়েছে। কিন্তু বন্যার কারনে হাটগুলোর অবস্থা খুব খারাপ। আমি মনে করি, বড় হাটগুলোর যারা ইজারাদার তাদের জন্য সরকারি ভাবে কিছু করা দরকার।

মীরগঞ্জ হাটের ইজারাদার রশিদুল ইসলাম জানান, আমরা হাট ইজারা নিই, আমাদের টার্গেট ঈদের ১ মাস আগে থেকে গরুর হাটগুলো ভালোভাবে চললে সেখানে লাভের মুখ দেখতে পাই।

কিন্তু এবারে বন্যা এমন সময়ে হলো, ঠিক ঐ সময়টা আমাদের জন্য মূল সময়। গত বছরগুলোতে ঈদের ১ মাস আগে থেকে ঢাকা, চিটাগাং, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গার গরু ব্যাবসায়ীরা ট্রাক নিয়ে এসে গরু ক্রয় করে নিয়ে যেত। গরুর চাহিদা ছিল বেশি এবং দামও ছিলো ভালো, এতে আমরা ও গরু বিক্রেতা উভয়ে লাভবান হইতাম। এবছর বন্যায় রাস্তাঘাট নষ্ট এবং বাহিরের ব্যাবসায়ীরা ট্রাক নিয়ে আসতে না পারায়, বর্তমানে ঈদের হাট বলতে কিছুই বুঝতেছি না। এবার এই মীরগঞ্জ হাট ইজারা নিয়েছি ১কোটি ১২ লাখ টাকা দিয়ে। এখন পর্যন্ত চার ভাগের এক ভাগ টাকাও তুলতে পারিনাই, আর হাটের যে অবস্থা তাতে পথে বসার মতই প্রায়।

একই কথা বললেন, টেংগনমারী, কৈমারী, রাজার হাট ও জলঢাকা হাটের ইজারাদাররা। ঈদকে সামনে রেখে, জলঢাকা থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান বলেন, গরুর হাটে জনগণের নিরাপর্তা দিতে পুলিশ প্রশাসন সব সময় সজাগ থাকবে।

ইত্তেফাক/নূহু