পদ্মার ভাঙনে তিন শতাধিক পরিবার গৃহহীন

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৭, ০২:১৭

টানা বর্ষণ ও প্রমত্তা পদ্মায় স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় ভাঙনে দুদিনে শরীয়তপুরে পদ্মা তীরবর্তী নড়িয়া, জাজিরা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৩ শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। এ সময় নড়িয়া, ভেদরগঞ্জ ও জাজিরা উপজেলার পাঁচটি বাজারের শতাধিক দোকানঘর ভাঙন কবলিত এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নড়িয়া উপজেলার চর নড়িয়া, ওয়াপদা ও সাহেব বেপারীর কান্দি এবং জাজিরা উপজেলার কাইয়ুম খারকান্দি ও কালু বেপারীকান্দি গ্রামে পদ্মার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনে এখানে ফসলি জমি, পাকা সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদসহ স্থাপনা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া নড়িয়া উপজেলার ওয়াপদা, সুরেশ্বর বাজার, জাজিরা উপজেলার কাইয়ুম খার বাজার এবং ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরের স্টেশন বাজারের শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙন কবলিত এলাকা থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

গত দু্ই মাসে এ এলাকায় পদ্মার ভাঙনে ২ হাজার ৭শ পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। প্রতি বছরই জেলার পদ্মা তীরবর্তী নড়িয়া, জাজিরা ও ভেদরগঞ্জের বিস্তৃর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হলেও ভাঙন প্রতিরোধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিত্ বৈদ্য জানান, জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর থেকে নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর লঞ্চঘাট পর্যন্ত নয় কি. মি. এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও নদী খনন করার জন্য ১ হাজার ২শ ৮০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। এ প্রকল্পটি অনুমোদনের পর বাস্তবায়ন হলে নদী ভাঙন স্থায়ীভাবে রোধ করা সম্ভব।

চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান, চরভদ্রাসন উপজেলায় গত কয়েক দিনে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও পদ্মা নদীর ভাঙনে নতুন করে ১৫ বাড়ি বিলীন হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে মানুষ।

দুদিনের অব্যাহত নদী ভাঙনে উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের জয়দেব সরকারের ডাঙ্গী ১২ বাড়ি ও সদর ইউনিয়নের বড় বালিয়া ডাঙ্গীর তিনটি বাড়ি, ২০ বিঘা ফসলি জমি ও বিভিন্ন প্রজাতির ৩ শতাধিক গাছ বিলীন হয়ে গেছে। আতঙ্কে রয়েছে নদী পারের মানুষ। সেই সঙ্গে ফাজেল খার ডাঙ্গী ও মোল্যা ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি চরম হুমকিতে রয়েছে গাজিরটেক ইউনিয়নের জয়দেব সরকারের ডাঙ্গীর শতবর্ষের পুরাতন একটি কালী মন্দির।

জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহামুদ বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকায় এ মুহূর্তে বালুর বস্তা ফেললে কোনো কাজে আসবে না। তাছাড়া চরভদ্রাসনে নদী ভাঙন প্রতিরোধে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় হতে ৩২৬ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যা এখন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। আমরা ভাঙনের বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছি।

ইত্তেফাক/নূহু