ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল-অরুয়াইল সড়কটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। চুক্তি করে কাজ করছে না ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। আর এলাকাবাসী মনে করছে দ্রুত সড়কটির সংস্কার করার মাধ্যমে রক্ষা করা না হলে ভরা বর্ষার এই মৌসুমে উপর্যুপরি ঢেউয়ের আঘাতে একেবারেই বিলীন হয়ে যাবে সড়কটি। সরাইল উপজেলার চুন্টা, অরুয়াইল, পাকশিমুল এবং নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় এই চার ইউনিয়নবাসীর জেলা সদরে আসা-যাওয়ার একমাত্র সড়ক এটি। প্রতিদিন এই চার ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ এই সড়ক দিয়ে যানবাহনে করে জেলা সদরসহ অন্য উপজেলা সদরে আসা-যাওয়া করেন। সরাইল ও নাসিরনগর উপজেলার উত্তরাঞ্চলের চার ইউনিয়নবাসীর স্বপ্নের সড়ক এটি।
২০১০ সালে হাওরের ওপর দিয়ে প্রায় ১২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এই সড়কটি নির্মাণ করে সরকার। সড়কটি নির্মাণের ফলে জেলা ও উপজেলা সদরের সাথে হাওর অঞ্চলের চার ইউনিয়নবাসীর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসার লাভ করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ১২ কিলোমিটার সড়কের প্রায় অনেকাংশেরই অবস্থা এখন খুবই নাজুক। গত বর্ষার মৌসুমে পানির প্রচণ্ড ঢেউয়ের তোপে একপাশের ব্লক সরে মাটি ধসে পড়ে পাশের ফসলি জমিতে। এ বছর আবার সড়কটি সংস্কারে নতুন উদ্যোগ না থাকায় এই ভরা বর্ষায় মৌসুমে সড়কটি ঢেউয়ের আঘাতে হাওরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, রাস্তাটি হওয়ার পর উপজেলা সদরসহ জেলার সাথে সড়ক পথে যোগাযোগ সহজ হয়েছে। জেলা ও উপজেলায় স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী, ব্যবসার কাজে এলাকাবাসী ও চাকরিজীবী মানুষ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যাতায়াত করতে পারে। কিন্তু সংস্কারের অভাবে আমাদের একমাত্র যোগাযোগের রাস্তাটি বিলীন হতে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে সরাইল উপজেলা প্রকৌশলী এমদাদুল হক বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি হয়েছে। টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।
ইত্তেফাক/নূহু
