রাজশাহীতে হাসান মোহাম্মদ খালেদুল হক নামে (৩৫) সোনালী ব্যাংকের এক সিনিয়র কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর ভেড়িপাড়া মোড় থেকে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা তাকে গ্রেফতার করেন।
দুদক কর্মকর্তারা জানান, খালেদুল হক সোনালী ব্যাংকের তানোর উপজেলা শাখায় থাকাকালে ওই শাখার আইটি কর্মকর্তা নাজির হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশ করে ১৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন।
অন্যদিকে সোনালী ব্যাংক তানোর শাখার আইটি কর্মকর্তা (সাময়িক বরখাস্ত) নাজির হোসেন নিজস্ব পাসওয়ার্ড ব্যবহার ও ব্যাংক হিসাবের রেকর্ডপত্র পরিবর্তন করে ৪১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন।
এ সব ঘটনা জানাজানির পর সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হাসান মো. খালেদুল হককে শাস্তিমূলক হিসেবে ব্যাংকের রাজশাহীস্থ প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করে এবং নাজির হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত ও থানায় মামলা দায়ের করে। এ ঘটনার পরই থেকে গ্রেফতার এড়াতে নাজির হোসেন আত্মগোপনে চলে যান।
সোনালী ব্যাংক তানোর শাখার ম্যানেজার জিল্লুর রহমান বলেন, সর্বমোট ৫৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদক রাজশাহীর উপ-পরিচালক আরিফ হোসেন তানোর থানায় পৃথক মামলা করেছেন। আইটি কর্মকতা নাজির হোসেনের বিরুদ্ধে ৪১ লাখ টাকা এবং সিনিয়র অফিসার হাসান মোহাম্মদ খালেদুল হকের বিরুদ্ধে ১৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে। মামলার দায়েরের পরেই হাসান মোহাম্মদ খালেদুল হককে গ্রেফতার করে দুদক। খালেদুল হক রাজশাহীর পবা উপজেলার ললিতাহার গ্রামের একরামুল হকের ছেলে।
অন্যদিকে পলাতক নাজির হোসেন রাজশাহী মহানগরীর বহরমপুর ব্যাংক কলোনির জনৈক গোলাম মোস্তফার ছেলে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
উভয় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, ব্যাংক কর্মকর্তা হাসান খালেদুল হককে গ্রেফতারের পর নগরীর রাজপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠাবে।
ইত্তেফাক/ইউবি
