এক ইউনিয়নেই ৫০ ইট ভাটা!

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০১৭, ০০:৩৫

ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের পদ্মার চরাঞ্চলের তিনটি গ্রাম জুড়ে গড়ে উঠেছে ৫০টি ইট ভাটা। ইট তৈরির প্রধান উপকরণ মাটির সহজপ্রাপ্যতা ও ইট ভাটার ব্যবসা লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এখানে ভাটার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত বছর এখানে ইটভাটার সংখ্যা ২৫টি থাকলেও চলতি বছরে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০টিতে। ইট পোড়ানো মৌসুমকে সামনে রেখে নতুন ২৫টি ভাটার নির্মাণ  কাজ চলছে  বেশ জোরেসোরে।

সরেজমিনে লক্ষ্মীকুন্ডার তিনটি গ্রাম কামালপুর, দাদাপুর ও বিলকেদার গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কৃষি জমির উপর এসব ইট ভাটা নির্মাণ করা হচ্ছে। ভাটা নির্মাণের জন্য চিমনির উচ্চতা ও আনুষঙ্গিক যে নির্দেশনা রয়েছে অধিকাংশ ভাটা মালিক তা যথাযথভাবে মানছেন না। বেশিরভাগ ভাটার মালিক ইট তৈরির জন্য অবৈধভাবে পদ্মার চর থেকে মাটি সংগ্রহ করছেন। এছাড়া বেশিরভাগ ভাটায় জ্বালানি হিসেবে কয়লার পরিবর্তে কাঠের খড়ি ব্যবহার করা হয়। এলাকার বাসিন্দারা জানান, অধিক মুনাফার আশায় ভাটার মালিকরা কৃষি জমিতে ভাটা নির্মাণ করছেন। ফলে চরাঞ্চলের কৃষি জমি দিন দিন কমে যাচ্ছে। ইটভাটার ধোঁয়ায় এলাকার পরিবেশও দূষিত হচ্ছে। এভাবে ভাটার সংখ্যা বাড়তে থাকলে কৃষি উত্পাদনের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে।

তবে লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) জিয়াউল ইসলাম জিয়া বলেন, লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে ইটভাটা শিল্প গড়ে উঠছে। এতে এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটছে। ইট তৈরির জন্য মাটি ও বালুর সহজপ্রাপ্যতার কারণে ভাটার মালিকরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। তাই পর্যায়ক্রমে ভাটার সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

লক্ষ্মীকুন্ডা ইট ভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, এখানকার ভাটাগুলোতে উন্নতমানের ইট তৈরি করা হয়। ইট নির্মাণের জন্য এখানে মাটি প্রাপ্তির সুবিধার কারণেই মূলত ভাটা গড়ে উঠছে। সব ভাটার সরকারি অনুমোদন রয়েছে কিনা জানতে চাইলে আরিফ বলেন, বেশ কয়েকটির অনুমোদন রয়েছে। কিছু অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং আরো কিছু ভাটা অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে। পদ্মার চর থেকে মাটি সংগ্রহের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, ফসল হয় না এমন জমির মালিকের সঙ্গে চুক্তি করে তার জমি হতে মাটি সংগ্রহ করা হয়।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে ইট ভাটার সংখ্যা ও অনুমোদন সম্পর্কে জানার চেষ্টা করলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাছরিন আক্তার বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু আমার জানা নেই। কোনো অনিয়ম হলে আমি সরকারি বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

ইত্তেফাক/নূহু