চট্টগ্রাম ওয়াসার ত্রুটিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ বিতরণ লাইনে প্রতিদিন প্রচুর পানি অপচয় হচ্ছে। ত্রুটিপূর্ণ পাইপ লাইনে দূষিত ও নোংরা পানি ঢুকে পড়ার আশঙ্কা বেড়েছে। জানা গেছে, নগরীতে তাদের প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার বিতরণ পাইপ লাইন রয়েছে। কিন্তু পাইপগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় লাইনে আয়রন জমে ও ফেটে গিয়ে বিশুদ্ধ পানিতে দূষণের ঝুঁকি বাড়ছে। ওয়াসা সম্প্রতি নগরীর বিতরণ পাইপ লাইনের প্রায় ৭০০টি ত্রুটি চিহ্নিত করেছে। এসব ছিদ্র দিয়ে বের হয়ে যাওয়ায় পানির অপচয় হচ্ছে এবং নোংরা ও ময়লাযুক্ত পানি পাইপ লাইনে ঢুকে পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে মাসে অন্তত দেড় কোটি টাকার পানি অপচয় হচ্ছে। ওয়াসার হিসেবেই প্রতি মাসে ৩০ শতাংশ পানি সিস্টেম লস হিসেবে ধরা হচ্ছে।
এর ওপর গত নভেম্বর মাসে ওয়াসার নতুন নির্মিত একটি পানি শোধনাগার চালু হয়েছে। এই প্রকল্প থেকে দৈনিক ১৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। এতে চাপ বেড়েছে নগরীর বিতরণ পাইপ লাইনে। তবে গত কয়েক মাস ধরে লাইনের ত্রুটি মেরামতের কাজ করছে ওয়াসা। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রকৌশল) রতন কুমার সরকার ইত্তেফাককে বলেন, ‘বিতরণ লাইনের ত্রুটির কারণে গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছানো পানির বিশুদ্ধতার শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া কঠিন। আমরা প্রতি মাসে বিতরণ লাইনের ৯০টি পয়েন্ট থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করে মান পরীক্ষা করি। তবে এখনো পর্যন্ত সরবরাহকৃত পানিতে কোনো ত্রুটি ধরা পড়েনি।’
ওয়াসা বর্তমানে আরো তিনটি নতুন পানি শোধনাগার নির্মাণে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। চট্টগ্রাম শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে রাঙ্গুনিয়ার গোডাউন এলাকা, মদুনা ঘাট ও বোয়ালখালী উপজেলার ভান্ডারজুরি এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী এলাকায় এই তিনটি পানি শোধনাগার নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০২২ সালের মধ্যে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ রয়েছে। এতে পানি সরবরাহ বাড়বে আরো ৩০ কোটি লিটার।
ওয়াসা সূত্র জানায়, এসব প্রকল্প থেকে পানি সরবরাহের আগেই নগরীর ত্রুটিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ বিতরণ পাইপ লাইন পরিবর্তনের প্রকল্প গ্রহণ করেছে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। এসব প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭০০ কিলোমিটার নতুন বিতরণ লাইন বসানো হবে। জানা যায়, কর্ণফুলী পানি শোধনাগার (পেইজ-২) এর আওতায় ৬১০ কিলোমিটার বিতরণ লাইন বসানো হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৫০ কোটি টাকা। ২০২১ সালের নভেম্বরের মধ্যে পাইপ লাইন বসানোর মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে। জাইকার অর্থায়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে।
এদিকে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে মদুনাঘাট এলাকায় দৈনিক ৯ কোটি লিটার উৎপাদনের ক্ষমতাসম্পন্ন অপর একটি পানি শোধনাগার নির্মাণ করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় নগরীতে প্রায় ৫৬ কিলোমিটার পাইপ লাইন বসানো ও ত্রুটিপূর্ণ পাইপ লাইন মেরামতের কাজ চলছে। আগামী ২০১৮ সালের জুন মাসের মধ্যে বিতরণ পাইপ লাইনের কাজ শেষ হবে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান।
এছাড়া বোয়ালখালী ভান্ডারজুরি এলাকায় অপর একটি পানি শোধনাগার নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের কনসালটেন্ট নিয়োগ হয়েছে। কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে এই প্রকল্প থেকে পানি সরবরাহ দেওয়া হবে। এই প্রকল্পের আওতায় ৬৩ কিলোমিটার বিতরণ পাইপ লাইন নির্মাণ করা হবে।
ইত্তেফাক/এমআর
