তিন পক্ষের লোভকে দায়ী করলেন পূর্তমন্ত্রী

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৪৮

 

এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ড

ইত্তেফাক রিপোর্ট

গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম বলেছেন, বনানীর এফ আর টাওয়ারের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তিন শ্রেণির মানুষ জড়িত। লোভী মালিক, লোভী ডেভেলপার এবং এই ডেভেলপমেন্ট কাজ দেখভাল করা যাদের দায়িত্ব ছিল অর্থাত্ রাজউকের সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা, পরিদর্শক, অথরাইজড অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সকলে। আরেকটি বিষয় ছিল অপরাধের চিহ্ন পাওয়ার পরও ব্যবস্থা না নেওয়া। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) আয়োজিত ইমারত নির্মাণে সরকারের দায়িত্ব ও নাগরিকদের করণীয়’ শীর্ষক মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ২০০৭ সালে এফ আর টাওয়ারের অবৈধ অংশের রিপোর্ট আসার পরও রাজউক-এর চেয়ারম্যানসহ অন্যরা ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। কেন সেটা তারা করেননি অথবা পরবর্তী সময়ে কেন এ বিষয়টি কারো দৃষ্টিগোচরে আসলো না, সেটা খতিয়ে দেখার জন্য আমরা উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি।

ইমারত নির্মাণের সঙ্গে যারা জড়িত শুধু তারা নয়, এ নির্মাণ পরিদর্শন করার দায়িত্ব রাজউকের যাদের ছিল তাদেরকেও সমান দায় নিতে হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এজাতীয় ঘটনায় অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি, এফ আর টাওয়ারের ঘটনায় আমরা মামলা করেছি। একাধিক আসামি গ্রেপ্তারও হয়েছে। আইনের শাসনের আওতায় অবহেলাকারীদের আনার এটি বাংলাদেশে প্রথম দৃষ্টান্ত।

মন্ত্রী বলেন, যে ভবনে শুধু অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই, তাদেরকে নির্ধারিত সময় দিয়ে বিল্ডিং কোড অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সম্পৃক্ত করতে বলা হবে। যে বিল্ডিং এ জরুরি বহির্গমন পথ নেই তাদেরকে নির্ধারিত সময়ে তা করতে হবে। যে ভবনে গ্যারেজের জায়গায় স্থাপনা করা হয়েছে তাদেরকে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে তা সরিয়ে ফেলতে হবে, যদি না করেন আমরা ব্যবস্থা নেবো। যারা অনুমোদন ছাড়া ঊর্ধ্বমুখী ইমারত নির্মাণ করেছেন, তাদেরকে তা সরিয়ে নিতে হবে।

পুরান ঢাকার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, পুরান ঢাকাকে নিয়ে আমরা রি-ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এই প্রকল্পের আওতায় পাঁচ কাঠা জায়গার ?উপর যদি তিনটি ভবন থাকে তাহলে আমরা পরিবেশসম্মত, বিল্ডিং কোড অনুযায়ী ভবন করে দেব এবং রেশিও (অনুপাত) অনুযায়ী ওই ভবন মালিকদের ফ্ল্যাট দেব।

সংগঠনের সভাপতি মশিউর রহমান খানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন রুবেলের সঞ্চালনায় সেখানে কর্মরত সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।