আনুষ্ঠানিকভাবে শনিবারের মধ্যে সব হজযাত্রীদের সৌদি আরব পৌঁছানোর কথা। কিন্তু, ফ্লাইট সংকটের কারণে এখনও অনিশ্চয়তায় কয়েক হাজার হজযাত্রী। এ কারণে দুপুর দুইটার দিকে রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্পের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেছেন প্রায় শতাধিক হজযাত্রী। মদিনা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি এজেন্সির মাধ্যমে পবিত্র হজব্রত পালনের জন্যে সৌদি আরবে যেতে বেশ কয়েকদিন ধরেই হজক্যাম্পে অবস্থান করছেন তারা।
প্রতারক মদিনা এয়ার ইন্টারন্যাশনালের স্বত্ত্বাধিকারী সাইফুল ইসলামের বিচার ও হজে যাওয়ার যাবতীয় ব্যবস্থার দাবিতে এ বিক্ষোভ করেন হজযাত্রীরা। বিক্ষোভকারী হজযাত্রী আজারউদ্দিন জানান, হজে যাওয়ার জন্যে সবার কাছ থেকেই সব ধরনের ফি নিয়েছে মদিনা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল। কিন্তু ২৬ আগস্ট (শনিবার) হজ ফ্লাইটের শেষ সূচি হলেও এখনও পর্যন্ত তারা প্লেনের টিকিট পাননি। এরই মধ্যে ওই এজেন্সির স্বত্তাধিকারী সাইফুল ইসলামেরও কোনো খোঁজ নেই।
হজযাত্রী ছদরউদ্দিন বলেন, এজেন্সির মালিক আমাদের টাকা পয়সা সবই নিয়ে গেছে। কিন্তু টিকিট দেয়নি। আজ পাসপোর্টসহ অন্যান্য কাগজপত্র অন্যদের মাধ্যমে পাঠিয়ে বলেছে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় টিকিট কেটে সৌদি যেতে। কিন্তু এ অবস্থায় আমরা কি করবো কোথায় যাবো?
এদিকে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নয়টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ। তিনি জানান, আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত ১৭৬টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে। সব হজযাত্রী যেন পৌঁছাতে পারেন এজন্য অতিরিক্ত সাতটি ফ্লাইট পরিচালনার জন্য সৌদি আরবে আবেদন করা হয়েছে। আশা করছি রাত আটটার মধ্যে অনুমোদন পেতে পারি।
জানা যায়, হজ ফ্লাইট শুরুর পর থেকেই ভিসা জটিলতায় ও হজযাত্রীদের বাড়ি ভাড়াসংক্রান্ত কারণে বিমানের ২৪টি এবং সৌদি অ্যারাবিয়ার চারটি হজ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বিমান ও সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ১৫ হাজার ৭৩০ হজযাত্রী এ পর্যন্ত সৌদি আরব পৌঁছেছেন। আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৬০ হাজার ৯৯ জন এবং সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স ৫৫ হাজার ৬৩১ জন হজযাত্রী পরিবহন করছে।
ইত্তেফাক/এএম।
