সোনাগাজীতে ফেনী নদীর ভাঙনের মুখে চার গ্রাম

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০১৭, ০১:১২

অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের নির্মাণের কারণে সোনাগাজীতে ফেনী নদীর ভাঙনে আমিরাবাদ ইউনিয়নের চারটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী জানান, ফেনী নদীর ভাঙনের কবলে সোনাগাজী উপজেলার ৮নং আমিরাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব চর কৃষ্ণজয় (গুচ্ছগ্রাম), চরলামছি ডুব্বা, পূর্ব সোনাপুর ও বাদামতলী গ্রামের ৭০টি বাড়ি এবং শত শত একর ফসলী জমি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

 

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল আলম জহির জানান, ফেনী নদী থেকে বালু দস্যুরা অবৈধভাবে প্রতিদিন ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন ও নদীতে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের জন্য ঘের নির্মাণের কারণে নদীর পানির গতিপ্রবাহ বাধার সম্মুখীন হয়ে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে ফেনী নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে সোনাগাজীর আমিরাবাদ এলাকার গ্রামগুলো।

 

তিনি আরো বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভাঙন এলাকার ঘর-বাড়ি ও ফসলী জমি বর্তমানে যেগুলো আছে সেগুলোও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভাঙন এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভাঙন রোধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না বলে এলাকাবাসী ও চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন।  সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মিনহাজুর রহমান জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও অবৈধ মাছ চাষের ঘের নির্মাণের কারণে এবং পার্শ্ববর্তী চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলা এলাকার লোকজন নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের নির্মাণ করে নদীর পানির স্বাভাবিক গতিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কারণে ভাঙনের কবলে পড়েছে ফেনী নদীর সোনাগাজী অংশের গ্রামগুলো।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ কোহিনুর আলম বলেন, আমিরাবাদ ইউনিয়নের ফেনী নদী অংশের ভাঙন তাদের পর্যবেক্ষণে আছে। সরকার থেকে বরাদ্দপ্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

ইত্তেফাক/নূহু