বৃষ্টি আর ভাঙ্গাচোরা রাস্তায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় যেতে দেড় ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে ৫-৭ ঘণ্টা। গত কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টির কারণে মহাসড়কের অধিকাংশ স্থান থেকে পিচ ঢালাই উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।এক দিকে বৃষ্টি অপর দিকে ভাঙ্গাচোরা রাস্তায় তীব্র যানজটের কারণে যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।আজ রবিবার মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গিয়ে দেখা গেছে, ভাঙ্গাচোরা রাস্তায় যানবাহন আটকেপড়ে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার সড়ক এখন খানা খন্দকে ভরা।
মাহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখা গেছে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা মোড় থেকে মির্জাপুরের জামুর্কি পর্যন্ত পুরো সড়কই যানজটে স্থবির।এসব কারণে যাত্রীদের কোন নিরাপত্তা নেই। যানজটের ফলে এ মহাসড়কে বাড়ছে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই। গত কয়েক মাস ধরে চলছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এ দুরবস্থা। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুরে প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকায় যানজট এখন স্থায়ী রূপ নিয়েছে। ফলে যাত্রীদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। টাঙ্গাইল থেকে রাজধানী ঢাকায় যেতে দেড় ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে যাত্রীদের সময় গুনতে হচ্ছে ১০-১৫ ঘণ্টা। কোন কোন ক্ষেত্রে আরও বেশী সময় লাগছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কবে নাগাদ এই মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের ভোগান্তি শেষ হবে তা কেউ সঠিক ভাবে বলতে পারছেন না। তীব্র যানজট থাকায় এ রোডে চলাচলকারী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে যানজটে আটকে থাকা অ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগী, নারী, বৃদ্ধ ও শিশুদের দুর্ভোগের শেষ নেই। কিছু কিছু যানবাহন বিকল্প পথ হিসেবে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ রোড হয়ে রাজধানী ঢাকায় যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছেন। উত্তরাঞ্চলের ২২ টি জেলার যানবাহন এবং টাঙ্গাইল, জামালপুর ও শেরপুর জেলার যানবাহন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করে আসছে। যানজটে স্থবির হয়ে পরেছে পুরো মহাসড়ক।IMG0
কয়েকজন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিক অভিযোগ করেন, এ মহাসড়কের যানজটের অন্যতম কারণ হচ্ছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চার লেনের কাজের জন্য। চার লেনের কাজ করার জন্য মীর আক্তার হোসেন জেবি ও আব্দুল মোনায়েম কোম্পানি কাজ শুরু করেন ২০১৫ সালে। এই গুরুত্বপূর্ণ কাজে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং প্রশাসনের নজরদারী না থাকায় এবং মহাসড়কের দুই পাশে ড্রাম ট্রাক দিয়ে মাটি ফেলার কারণেই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবার এ মহাসড়কে যানজট সৃষ্টির অধিকাংশ কারণ যানবাহনের অদক্ষ চালক। একটু জাম হলেই আগে যাওয়ার জন্য চালকরা লাইন ছেড়ে অন্য লাইনে যাওয়ার চেষ্টা করে। ফলে শুরু হয় দুই দিক থেকেই যানজট। এছাড়া চন্দ্রা এলাকায় প্রশাসনের অব্যবস্থাপনার কারণে যানবাহন পাস হতে(ঢাকা ও গাজীপুরে) ঢুকতে পারছে না। ফলে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন,ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যানজট এখন নিত্য দিনের জন্য পরিণত হয়েছে।যানজট নিরসনের জন্য তাদের অধিকাংশ সময় রাস্তার মধ্যে থাকতে হচ্ছে।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন বলেন, যানজটের মুল কারণ এ মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ভাঙ্গাচোরা রাস্তা ও অসংখ্য খানা খন্দক ও ভাঙ্গাচোরা ব্রিজ । এছাড়া চার লেনের কাজ হলেও সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং চারলেনের কাজে নিয়োজিত দুইটি কোম্পানির মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভাবে এ রোডে প্রতিনিয়তই যানজট হচ্ছে।ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু যানজট মুক্ত রাখার দাবী জানিয়ে এবং বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি একটি প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন অধিদপ্তরে জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে চারলেন কাজে নিয়োজিত মীর আকতার হোসেন জেবি লি. এবং আব্দুল মোনেম কোং লি. এর দায়িত্বশীল দুই কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, বাংলাদেশ সরকার এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের মধ্যে চুক্তি হয়েছে এ মহাসড়ক চারলেন কাজ করে দেওয়ার জন্য। সে অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। কিন্তু চারলেনের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভাঙ্গা চোরা রাস্তা মেরামত করবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল আলম বলেন, টানা বৃষ্টি থাকার কারণে ভাঙ্গাচোরা রাস্তা মেরামত করতে একটু বিলম্ব হয়েছিল।এখন আবহাওয়া ভাল হওয়ায় মেরামতের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআর
